উক্ত খলিফা অর্থাৎ হযরত ওমর (রা) একটি সুষ্ঠু ও কল্যাণমুখী শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলেন।
হযরত ওমর (রা) ছিলেন একজন আদর্শ খলিফা ও জনদরদি মানুষ। তার মতো সুযোগ্য শাসক বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। তিনি তার অসাধারণ প্রশাসনিক ও সামরিক দক্ষতাবলে নব প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাম্রাজ্যের অবস্থান সুসংহত করেন।
মহানবি (স) আরবে ইসলামি শাসনতন্ত্রের সূচনা করেছিলেন। হযরত ওমর (রা) সেটিকে একটি বৃহৎ ও শক্তিশালী সাম্রাজ্যে পরিণত করেন। তার আমলে মুসলিম সাম্রাজ্যের সীমা পারস্য, সিরিয়া ও মিসর পর্যন্ত প্রসারিত হয়। ওমর (রা) শতধাবিভক্ত আরববাসীকে ইসলামি ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করেন। তিনি মনে করেন, আরব মুসলমানরা ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যগত দিক দিয়ে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র একটি জাতি। তাই আরব জাতীয়তাবাদ গঠনে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। অসাধারণ সামরিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বলে উচ্ছৃঙ্খল আরবদের একটি সুশৃঙ্খল সামরিক জাতি হিসেবে গড়ে তোলেন। তিনি সমগ্র সাম্রাজ্যকে ১৪টি প্রদেশে, প্রত্যেক প্রদেশকে জেলায় এবং জেলাকে মহকুমায় বিভক্ত করেন। তিনিই বিশ্বের প্রথম শাসক, যিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য শাসন বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক করেন। তার প্রতিষ্ঠিত 'মজলিশ-উস-শুরা' বা উপদেষ্টা পরিষদ আজও বিশ্ব গণতন্ত্রের জয়গান করছে। মহানবি (স) মদিনায় গণতন্ত্রের যে বীজ বপন করেছিলেন তা ওমর (রা)-এর ঐক্য, সাম্য ও মৈত্রী নীতিতে এক শক্তিশালী মহীরূহে পরিণত হয়েছিল। তিনি বায়তুল মাল-এর সংস্কার ও পুনর্গঠন করেন। অসহায়দের অভাব দূর করার জন্য ওমর (রা) সরকারি ভাতার ব্যবস্থা করেন। এ ব্যবস্থা সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য তিনি বিশ্বে প্রথম আদমশুমারির প্রচলন করেন। তিনি দাসত্ব প্রথার বিলোপ সাধন করে সামাজিক সাম্য ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ।
পরিশেষে বলা যায়, হযরত ওমর (রা) ছিলেন একজন প্রজারঞ্জক শাসক। তাই তিনি বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে সুষ্ঠু জনকল্যাণমুখী একটি শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছিলেন, যা সর্বযুগের শাসকদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ।