Chapter 3 : খুলাফায়ে রাশেদিন Islamic History 1st paper

HSC Islamic History 1st paper এর Chapter 3 : খুলাফায়ে রাশেদিন অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৬৫৮

প্রশ্ন

Islamic History 1st paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সমশের উদ্দিন একজন বড় ব্যবসায়ী ও ধনবান ব্যক্তি। তাঁর উদারতার কথা কারো অজানা নয়। তিনি যেমন নম্র, ভদ্র ও চরিত্রবান তেমনি পরোপকারীও বটে। যে কোন সমস্যা বা দুর্যোগের সময় তিনি মানুষের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসেন। তার দয়া-দাক্ষিণ্য, উত্তম চরিত্র ও মহত্ত্বের কারণে সকলেই তাকে সম্মান করে। ধর্মীয় ব্যাপারে তিনি যথেষ্ট আনুগত্যশীল। তিনি এলাকাবাসীর অনুরোধে নিজ খরচে একটি মসজিদ নির্মাণ করে দেন। এতে এলাকাবাসী খুবই খুশি হয়।

Rajshahi · 2017

ক
হযরত ওমর (রা)-এর উপাধি কী ছিল?

উত্তর

হযরত ওমর (রা)-এর উপাধি ছিল 'ফারুক' বা সত্য-মিথ্যার প্রভেদকারী।
খ
দিওয়ান বলতে কী বুঝ? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

হযরত ওমর (রা)-এর কেন্দ্রীয় প্রশাসনের একটি অন্যতম দফতর ছিল দিওয়ান বা রাজস্ব বিভাগ। সাম্রাজ্যের আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণের জন্য হযরত ওমর (রা) দিওয়ান নামক একটি স্থায়ী বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রশাসনিক সুবিধার্থে একে দুভাগে বিন্যস্ত করা হয়। এর প্রথম ভাগে আয় এবং দ্বিতীয় ভাগে ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষিত হয়। রাজস্ব আদায়ের উৎসগুলো ছিল- গনিমত, যাকাত, উশর, জিজিয়া, আল খারাজ (ভূমিকর), উশুর, ফাই (রাষ্ট্রীয় ভূমির আয়), আল হিসা। এসব উৎস থেকে আয়কৃত অর্থ বায়তুল মালের মাধ্যমে জনকল্যাণে ব্যয় করা হতো। বিজিত এলাকার জমির সুষ্ঠু বণ্টন, রাজস্ব নির্ধারণ ও তা আদায়, কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নেরও দায়িত্ব ছিল এ বিভাগের ওপর।
গ
সমশের উদ্দিন সাহেব কোন খলিফাকে অনুসরণ করে মসজিদের সকল ব্যয় ভার বহন করেছিলেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

সমশের উদ্দিন সাহেব ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রা) কে অনুসরণ করে মসজিদের ব্যয়ভার বহন করেন। হযরত ওসমান (রা)-এর খিলাফতকালে জনকল্যাণ ও খিলাফতের বিশেষ অগ্রগতি সাধিত হয়। এ সময় মাঝে মাঝে খায়বরের দিক হতে জলোচ্ছ্বাস আসায় জনসাধারণকে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হতো। তাই মদিনার কিছু দূরে হযরত ওসমান (রা) 'মাহজুর' নামক একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে দেন। মসজিদে নববির প্রাসাদের কাজ ২০ হিজরিতে বিশেষ ব্যবস্থাধীনে নতুন করে আরম্ভ করেন। মদিনার পার্শ্ববর্তী জমিগুলো ক্রয় করে দশ মাসের অবিরাম চেষ্টার পর ইট, পাথর ও চুনার সাহায্যে একটি সুদৃঢ় প্রাসাদ নির্মাণ করেন। উদ্দীপকে সমশের উদ্দিন হযরত ওসমান (রা)-এর এ নীতি অনুসরণ করেন। উদ্দীপকে সমশের উদ্দিন ধর্মানুরাগী ব্যক্তি। তিনি মানুষের অনুভূতিকে সম্মান জানান। তাই এলাকার মানুষ তাকে অনুরোধ জানালে তিনি মসজিদ নির্মাণের ব্যয় ও জায়গার ব্যাপারে যাবতীয় ব্যয়ভার গ্রহণের ঘোষণা দেন। এতে সমশের উদ্দিনের মহানুভবতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তিনি সমস্যা বা দুর্যোগের সময় মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসেন। একই বৈশিষ্ট্য হযরত ওসমান (রা)-এর ক্ষেত্রেও লক্ষ করা যায়। তিনি মুসলমানদের পানির কষ্ট লাঘবের জন্য এক ইহুদির কাছ থেকে ২০০০০ দিনারের বিনিময়ে মদিনার বীররুমা নামক একটি কূপ ক্রয় করে দান করেন। হযরত ওসমান (রা)-এর এ উদ্যোগ জনকল্যাণে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। সুতরাং বলা যায়, সমশের উদ্দিন মসজিদের ব্যয়ভার বহনের ক্ষেত্রে ইসলামি খিলাফতের তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রা) কে অনুসরণ করেছেন।
ঘ
আর্তমানবতার সেবায় সমশের সাহেবের মতো মানুষদের ভূমিকা সমাজে কী ধরনের অবদান রাখবে বলে তুমি মনে কর? মতামত দাও।

উত্তর

আর্ত-মানবতার সেবায় সমশের সাহেবের মতো মানুষদের ভূমিকা সমাজ উন্নয়ন এবং দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের দুঃখ-কষ্ট দূরীকরণে সহায়ক হবে। ইসলাম মানবতা ও কল্যাণের ধর্ম। মানুষের সর্বাধিক কল্যাণ নিশ্চিতকরণে ইসলামের সকল বিধি-বিধান প্রণীত হয়েছে। আর ইসলামের অনুসারীগণ এসব বিধান অনুসরণ করেই যুগে যুগে মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেছেন। রাসুল (স) থেকে শুরু করে চার খলিফার জীবন ছিল আর্ত-মানবতার সেবায় উৎসর্গকৃত। আর এ মহান ব্যক্তিদের ভূমিকায় একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, সাবলীল, ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব হয়েছে। উদ্দীপকের সমশের উদ্দিনও তাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেকে মানবতার সেবায় উৎসর্গ করেছেন। সমশের উদ্দিনের মতো সমাজের অন্যান্য ধনী ব্যক্তিরা যদি দরিদ্র- অসহায়দের কল্যাণে দান করতে উৎসাহী হন, তবে সমাজ থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণ সম্ভব হবে। সেই সাথে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হলে সমাজের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রা) এক্ষেত্রে ধনীদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। তিনি সমাজ বিনির্মাণে অকাতরে সম্পদ ব্যয় করেছেন। ইসলামের খেদমতে তার বিপুল সম্পদ দান করে দিয়েছেন। ফলে ইসলামের প্রসার ও প্রচারে আর্থিক সমস্যার সমাধান হয়েছে। অন্যদিকে মসজিদ, কূপ নির্মাণে তার অবদান মুসলমানদের ধর্মীয় কাজকে সহজসাধ্য করে দিয়েছে। ফলে মানুষের মধ্যে ধর্ম পালনে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। উদ্দীপকের সমশের উদ্দিনও তার নীতি অনুসরণ করেছেন। এভাবে সমাজের বিত্তবান ও সম্পদশালীরা যদি ইসলামের সেবা ও মানুষের কল্যাণে সম্পদ ব্যয়ে আত্মনিয়োগ করেন; তবে দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নয়নমুখী ও কল্যাণধর্মী সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব হবে। পরিশেষে বলা যায়, ইসলামের নীতি ও আদর্শ অনুসরণ করে সমশের উদ্দিন যেভাবে সমাজে ভূমিকা রাখছেন, সমাজের প্রত্যেক বিত্তবানদের কর্তব্য সমাজের সার্বিক উন্নয়নে সম্পদ ব্যয় করে সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সমশের উদ্দিন একজন বড় ব্যবসায়ী ও ধনবান ব্যক্তি। তাঁর উদারতার কথা কারো অজানা নয়। তিনি যেমন নম্র, ভদ্র ও চরিত্রবান তেমনি পরোপকারীও বটে। যে কোন সমস্যা বা দুর্যোগের সময় তিনি মানুষের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসেন। তার দয়া-দাক্ষিণ্য, উত্তম চরিত্র ও মহত্ত্বের কারণে সকলেই তাকে সম্মান করে। ধর্মীয় ব্যাপারে তিনি যথেষ্ট আনুগত্যশীল। তিনি এলাকাবাসীর অনুরোধে নিজ খরচে একটি মসজিদ নির্মাণ করে দেন। এতে এলাকাবাসী খুবই খুশি হয়।

Rajshahi · 2017

ক
হযরত ওমর (রা)-এর উপাধি কী ছিল?

উত্তর

হযরত ওমর (রা)-এর উপাধি ছিল 'ফারুক' বা সত্য-মিথ্যার প্রভেদকারী।
খ
দিওয়ান বলতে কী বুঝ? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

হযরত ওমর (রা)-এর কেন্দ্রীয় প্রশাসনের একটি অন্যতম দফতর ছিল দিওয়ান বা রাজস্ব বিভাগ। সাম্রাজ্যের আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণের জন্য হযরত ওমর (রা) দিওয়ান নামক একটি স্থায়ী বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রশাসনিক সুবিধার্থে একে দুভাগে বিন্যস্ত করা হয়। এর প্রথম ভাগে আয় এবং দ্বিতীয় ভাগে ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষিত হয়। রাজস্ব আদায়ের উৎসগুলো ছিল- গনিমত, যাকাত, উশর, জিজিয়া, আল খারাজ (ভূমিকর), উশুর, ফাই (রাষ্ট্রীয় ভূমির আয়), আল হিসা। এসব উৎস থেকে আয়কৃত অর্থ বায়তুল মালের মাধ্যমে জনকল্যাণে ব্যয় করা হতো। বিজিত এলাকার জমির সুষ্ঠু বণ্টন, রাজস্ব নির্ধারণ ও তা আদায়, কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নেরও দায়িত্ব ছিল এ বিভাগের ওপর।
গ
সমশের উদ্দিন সাহেব কোন খলিফাকে অনুসরণ করে মসজিদের সকল ব্যয় ভার বহন করেছিলেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

সমশের উদ্দিন সাহেব ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রা) কে অনুসরণ করে মসজিদের ব্যয়ভার বহন করেন। হযরত ওসমান (রা)-এর খিলাফতকালে জনকল্যাণ ও খিলাফতের বিশেষ অগ্রগতি সাধিত হয়। এ সময় মাঝে মাঝে খায়বরের দিক হতে জলোচ্ছ্বাস আসায় জনসাধারণকে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হতো। তাই মদিনার কিছু দূরে হযরত ওসমান (রা) 'মাহজুর' নামক একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে দেন। মসজিদে নববির প্রাসাদের কাজ ২০ হিজরিতে বিশেষ ব্যবস্থাধীনে নতুন করে আরম্ভ করেন। মদিনার পার্শ্ববর্তী জমিগুলো ক্রয় করে দশ মাসের অবিরাম চেষ্টার পর ইট, পাথর ও চুনার সাহায্যে একটি সুদৃঢ় প্রাসাদ নির্মাণ করেন। উদ্দীপকে সমশের উদ্দিন হযরত ওসমান (রা)-এর এ নীতি অনুসরণ করেন। উদ্দীপকে সমশের উদ্দিন ধর্মানুরাগী ব্যক্তি। তিনি মানুষের অনুভূতিকে সম্মান জানান। তাই এলাকার মানুষ তাকে অনুরোধ জানালে তিনি মসজিদ নির্মাণের ব্যয় ও জায়গার ব্যাপারে যাবতীয় ব্যয়ভার গ্রহণের ঘোষণা দেন। এতে সমশের উদ্দিনের মহানুভবতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তিনি সমস্যা বা দুর্যোগের সময় মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসেন। একই বৈশিষ্ট্য হযরত ওসমান (রা)-এর ক্ষেত্রেও লক্ষ করা যায়। তিনি মুসলমানদের পানির কষ্ট লাঘবের জন্য এক ইহুদির কাছ থেকে ২০০০০ দিনারের বিনিময়ে মদিনার বীররুমা নামক একটি কূপ ক্রয় করে দান করেন। হযরত ওসমান (রা)-এর এ উদ্যোগ জনকল্যাণে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। সুতরাং বলা যায়, সমশের উদ্দিন মসজিদের ব্যয়ভার বহনের ক্ষেত্রে ইসলামি খিলাফতের তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রা) কে অনুসরণ করেছেন।
ঘ
আর্তমানবতার সেবায় সমশের সাহেবের মতো মানুষদের ভূমিকা সমাজে কী ধরনের অবদান রাখবে বলে তুমি মনে কর? মতামত দাও।

উত্তর

আর্ত-মানবতার সেবায় সমশের সাহেবের মতো মানুষদের ভূমিকা সমাজ উন্নয়ন এবং দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের দুঃখ-কষ্ট দূরীকরণে সহায়ক হবে। ইসলাম মানবতা ও কল্যাণের ধর্ম। মানুষের সর্বাধিক কল্যাণ নিশ্চিতকরণে ইসলামের সকল বিধি-বিধান প্রণীত হয়েছে। আর ইসলামের অনুসারীগণ এসব বিধান অনুসরণ করেই যুগে যুগে মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেছেন। রাসুল (স) থেকে শুরু করে চার খলিফার জীবন ছিল আর্ত-মানবতার সেবায় উৎসর্গকৃত। আর এ মহান ব্যক্তিদের ভূমিকায় একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, সাবলীল, ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব হয়েছে। উদ্দীপকের সমশের উদ্দিনও তাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেকে মানবতার সেবায় উৎসর্গ করেছেন। সমশের উদ্দিনের মতো সমাজের অন্যান্য ধনী ব্যক্তিরা যদি দরিদ্র- অসহায়দের কল্যাণে দান করতে উৎসাহী হন, তবে সমাজ থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণ সম্ভব হবে। সেই সাথে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হলে সমাজের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রা) এক্ষেত্রে ধনীদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। তিনি সমাজ বিনির্মাণে অকাতরে সম্পদ ব্যয় করেছেন। ইসলামের খেদমতে তার বিপুল সম্পদ দান করে দিয়েছেন। ফলে ইসলামের প্রসার ও প্রচারে আর্থিক সমস্যার সমাধান হয়েছে। অন্যদিকে মসজিদ, কূপ নির্মাণে তার অবদান মুসলমানদের ধর্মীয় কাজকে সহজসাধ্য করে দিয়েছে। ফলে মানুষের মধ্যে ধর্ম পালনে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। উদ্দীপকের সমশের উদ্দিনও তার নীতি অনুসরণ করেছেন। এভাবে সমাজের বিত্তবান ও সম্পদশালীরা যদি ইসলামের সেবা ও মানুষের কল্যাণে সম্পদ ব্যয়ে আত্মনিয়োগ করেন; তবে দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নয়নমুখী ও কল্যাণধর্মী সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব হবে। পরিশেষে বলা যায়, ইসলামের নীতি ও আদর্শ অনুসরণ করে সমশের উদ্দিন যেভাবে সমাজে ভূমিকা রাখছেন, সমাজের প্রত্যেক বিত্তবানদের কর্তব্য সমাজের সার্বিক উন্নয়নে সম্পদ ব্যয় করে সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

বাংলায় মুসলিম শাসনের প্রাক্কালে বিভিন্ন অঞ্চলে অনেক ভণ্ডপীরের আবির্ভাব হয়। তারা ইসলামের ভ্রান্ত ব্যাখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষকে মন্দ ও পাপ কাজে লিপ্ত করায়, যা ইসলাম পরিপন্থি। তারা প্রকৃত সত্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও যুদ্ধ ঘোষণা করে। নব্য ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারীগণ সঠিকভাবে ইসলামের মর্মবাণী অনুধাবন করতে না পারায় এবং কোনো মহান নেতার সাহচার্য না পাওয়ায় দুর্বল ইমানী শক্তি নিয়ে সঠিক পথের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।

Rajshahi · 2017

ক
ধর্মত্যাগী ভন্ড নবিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধের নাম কী?

উত্তর

ধর্মত্যাগী ভন্ড নবিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধের নাম রিদ্দার যুদ্ধ।
খ
হুদায়বিয়ার সন্ধিকে প্রকাশ্য বিজয় বলা হয় কেন?

উত্তর

৬২৮ খ্রিস্টাব্দে মক্কার কুরাইশ ও রাসুল (স)-এর মধ্যে সম্পাদিত হুদায়বিয়ার সন্ধিতে পরোক্ষভাবে মুসলমানদের বিজয় নিহিত ছিল। তাই পবিত্র কুরআনে একে প্রকাশ্য বিজয় হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ইসলাম ও বিশ্বের ইতিহাসে হুদায়বিয়ার সন্ধি এক যুগান্তকারী ঘটনা। কারণ এটি সর্বতোভাবে মুসলিম স্বার্থের অনুকূলে ছিল। এ সন্ধির দ্বারা কুরাইশরা মহানবি (স) কে একজন মহান নেতা এবং মদিনা রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে মেনে নেয়। মুসলমানরা যে একটি স্বতন্ত্র শক্তি তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে এ সন্ধির মাধ্যমে। মোট কথা, এ সন্ধি মুসলমানদের একটি স্থায়ী রাজনৈতিক মর্যাদা দান করে। এ কারণে হুদায়বিয়ার সন্ধিকে 'ফাতহুম মুবীন' বা শ্রেষ্ঠ বিজয় বলা হয়।
গ
উদ্দীপকের ভন্ডপিরের সাথে আবু বকর (রা) এর সময়কালের ভন্ড নবিদের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

মুসলিম জাহানের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা) এর শাসনামলে ভণ্ড নবির আবির্ভাবের ঘটনার সাথে উদ্দীপকে বর্ণিত ভণ্ড পিরদের মিল রয়েছে। উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই যে, প্রাচীন বাংলায় বিভিন্ন অঞ্চলে ভণ্ড পিরদের আবির্ভাব হয়। তারা ইসলামের ভ্রান্ত ব্যাখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে। তারা প্রকৃত সত্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। তাদের এরূপ কর্মকাণ্ডের সাথে মহানবি (স)-এর মৃত্যুর পর আবু বকর (রা) এর খিলাফতকালের কিছু ভন্ড নবির কর্মকান্ডের সামঞ্জস্য রয়েছে। আখেরি জামানার নবি ও বিশ্বমানবতার উত্তম আদর্শ হযরত মুহাম্মদ (স)- এর মৃত্যুর পর অর্থাৎ ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দের পর গোটা মুসলিম জাহানে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এ সময় কিছু লোক হীনস্বার্থ উদ্ধারের জন্য নিজেদেরকে নবি হিসেবে দাবি করে। এদের মধ্যে আসওয়াদ আনাসি, মুসায়লামা, তোলায়হা এবং সাজাহ ছিল অন্যতম। এরা নিজেদের নবি হিসেবে ঘোষণা করে জনসাধারণের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছিল। রাসুলের মৃত্যু পরবর্তী সময়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় উদ্দীপকেও তা লক্ষণীয়। সুতরাং উদ্দীপকের সাথে রাসুল (স)-এর ওফাতের পর এবং খুলাফায়ে রাশেদিনের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা)-এর সময়কার ভণ্ড নবিদের মিল রয়েছে।
ঘ
রিদ্দা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

রিদ্দা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর অধ্যায়। মহানবি (স) এর ইন্তেকালের পর বিভিন্ন আরব গোত্র ধর্ম ত্যাগ করে পূর্ব ধর্মে ফিরে যাচ্ছিল। এই সুযোগে কতিপয় ভন্ড নবির আবির্ভাব ঘটে। হযরত আবু বকর (রা) এ সমস্ত ধর্মত্যাগী ও ভন্ড নবিদের দমন করার জন্য যে যুদ্ধ পরিচালনা করেন তাই রিদ্দা যুদ্ধ নামে পরিচিত। উদ্দীপকেও এ যুদ্ধের প্রেক্ষাপটের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। উদ্দীপকে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভন্ড পিরের আবির্ভাবের ঘটনায় ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা) এর শাসনামলে স্বধর্মত্যাগী ও ভন্ড নবিদের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। তাঁর শাসনামলে আসওয়াদ আনাসি, মুসায়লামা, তোলায়হা এবং সাজাহ নামে বেশ কয়েকজন ভন্ড নবির আবির্ভাব ঘটে। এ সমস্ত ভন্ড নবি ও স্বধর্মত্যাগীদের প্রবল আন্দোলনে আরব রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়লে হযরত আবু বকর (রা) তার নির্ভীকতা, বিচক্ষণতা ও সত্যনিষ্ঠার মাধ্যমে তাদেরকে দমন করেন। আবু বকর (রা) প্রথমে ফিরোজ দাইলামীর মাধ্যমে আসওয়াদ আনাসিকে হত্যা করেন। পরবর্তীকালে সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদকে প্রেরণ করে তোলায়হা, সাজাহ ও মুসায়লামাকে কঠোর হস্তে দমন করেন। এছাড়া আবু বকর (রা) দক্ষিণ সিরিয়ার যাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি প্রকাশকারীদেরকেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। আর এভাবেই বিভিন্ন ঘটনা ও বিচক্ষণ পরিকল্পনার মাধ্যমে রিদ্দা যুদ্ধ পরিচালিত হয়। উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ভন্ড নবি ও স্বধর্মত্যাগীদের দমনের প্রেক্ষিতে হযরত আবু বকর (রা) রিদ্দা যুদ্ধ পরিচালনা করেন।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

বাংলায় মুসলিম শাসনের প্রাক্কালে বিভিন্ন অঞ্চলে অনেক ভণ্ডপীরের আবির্ভাব হয়। তারা ইসলামের ভ্রান্ত ব্যাখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষকে মন্দ ও পাপ কাজে লিপ্ত করায়, যা ইসলাম পরিপন্থি। তারা প্রকৃত সত্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও যুদ্ধ ঘোষণা করে। নব্য ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারীগণ সঠিকভাবে ইসলামের মর্মবাণী অনুধাবন করতে না পারায় এবং কোনো মহান নেতার সাহচার্য না পাওয়ায় দুর্বল ইমানী শক্তি নিয়ে সঠিক পথের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।

Rajshahi · 2017

ক
ধর্মত্যাগী ভন্ড নবিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধের নাম কী?

উত্তর

ধর্মত্যাগী ভন্ড নবিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধের নাম রিদ্দার যুদ্ধ।
খ
হুদায়বিয়ার সন্ধিকে প্রকাশ্য বিজয় বলা হয় কেন?

উত্তর

৬২৮ খ্রিস্টাব্দে মক্কার কুরাইশ ও রাসুল (স)-এর মধ্যে সম্পাদিত হুদায়বিয়ার সন্ধিতে পরোক্ষভাবে মুসলমানদের বিজয় নিহিত ছিল। তাই পবিত্র কুরআনে একে প্রকাশ্য বিজয় হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ইসলাম ও বিশ্বের ইতিহাসে হুদায়বিয়ার সন্ধি এক যুগান্তকারী ঘটনা। কারণ এটি সর্বতোভাবে মুসলিম স্বার্থের অনুকূলে ছিল। এ সন্ধির দ্বারা কুরাইশরা মহানবি (স) কে একজন মহান নেতা এবং মদিনা রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে মেনে নেয়। মুসলমানরা যে একটি স্বতন্ত্র শক্তি তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে এ সন্ধির মাধ্যমে। মোট কথা, এ সন্ধি মুসলমানদের একটি স্থায়ী রাজনৈতিক মর্যাদা দান করে। এ কারণে হুদায়বিয়ার সন্ধিকে 'ফাতহুম মুবীন' বা শ্রেষ্ঠ বিজয় বলা হয়।
গ
উদ্দীপকের ভন্ডপিরের সাথে আবু বকর (রা) এর সময়কালের ভন্ড নবিদের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

মুসলিম জাহানের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা) এর শাসনামলে ভণ্ড নবির আবির্ভাবের ঘটনার সাথে উদ্দীপকে বর্ণিত ভণ্ড পিরদের মিল রয়েছে। উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই যে, প্রাচীন বাংলায় বিভিন্ন অঞ্চলে ভণ্ড পিরদের আবির্ভাব হয়। তারা ইসলামের ভ্রান্ত ব্যাখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে। তারা প্রকৃত সত্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। তাদের এরূপ কর্মকাণ্ডের সাথে মহানবি (স)-এর মৃত্যুর পর আবু বকর (রা) এর খিলাফতকালের কিছু ভন্ড নবির কর্মকান্ডের সামঞ্জস্য রয়েছে। আখেরি জামানার নবি ও বিশ্বমানবতার উত্তম আদর্শ হযরত মুহাম্মদ (স)- এর মৃত্যুর পর অর্থাৎ ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দের পর গোটা মুসলিম জাহানে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এ সময় কিছু লোক হীনস্বার্থ উদ্ধারের জন্য নিজেদেরকে নবি হিসেবে দাবি করে। এদের মধ্যে আসওয়াদ আনাসি, মুসায়লামা, তোলায়হা এবং সাজাহ ছিল অন্যতম। এরা নিজেদের নবি হিসেবে ঘোষণা করে জনসাধারণের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছিল। রাসুলের মৃত্যু পরবর্তী সময়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় উদ্দীপকেও তা লক্ষণীয়। সুতরাং উদ্দীপকের সাথে রাসুল (স)-এর ওফাতের পর এবং খুলাফায়ে রাশেদিনের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা)-এর সময়কার ভণ্ড নবিদের মিল রয়েছে।
ঘ
রিদ্দা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

রিদ্দা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর অধ্যায়। মহানবি (স) এর ইন্তেকালের পর বিভিন্ন আরব গোত্র ধর্ম ত্যাগ করে পূর্ব ধর্মে ফিরে যাচ্ছিল। এই সুযোগে কতিপয় ভন্ড নবির আবির্ভাব ঘটে। হযরত আবু বকর (রা) এ সমস্ত ধর্মত্যাগী ও ভন্ড নবিদের দমন করার জন্য যে যুদ্ধ পরিচালনা করেন তাই রিদ্দা যুদ্ধ নামে পরিচিত। উদ্দীপকেও এ যুদ্ধের প্রেক্ষাপটের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। উদ্দীপকে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভন্ড পিরের আবির্ভাবের ঘটনায় ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা) এর শাসনামলে স্বধর্মত্যাগী ও ভন্ড নবিদের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। তাঁর শাসনামলে আসওয়াদ আনাসি, মুসায়লামা, তোলায়হা এবং সাজাহ নামে বেশ কয়েকজন ভন্ড নবির আবির্ভাব ঘটে। এ সমস্ত ভন্ড নবি ও স্বধর্মত্যাগীদের প্রবল আন্দোলনে আরব রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়লে হযরত আবু বকর (রা) তার নির্ভীকতা, বিচক্ষণতা ও সত্যনিষ্ঠার মাধ্যমে তাদেরকে দমন করেন। আবু বকর (রা) প্রথমে ফিরোজ দাইলামীর মাধ্যমে আসওয়াদ আনাসিকে হত্যা করেন। পরবর্তীকালে সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদকে প্রেরণ করে তোলায়হা, সাজাহ ও মুসায়লামাকে কঠোর হস্তে দমন করেন। এছাড়া আবু বকর (রা) দক্ষিণ সিরিয়ার যাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি প্রকাশকারীদেরকেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। আর এভাবেই বিভিন্ন ঘটনা ও বিচক্ষণ পরিকল্পনার মাধ্যমে রিদ্দা যুদ্ধ পরিচালিত হয়। উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ভন্ড নবি ও স্বধর্মত্যাগীদের দমনের প্রেক্ষিতে হযরত আবু বকর (রা) রিদ্দা যুদ্ধ পরিচালনা করেন।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

জনাব 'ক' পৌরসভার নির্বাচিত চেয়ারম্যান। মেয়াদের প্রথম দিকে তিনি জনগণের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। কিন্তু মেয়াদের শেষের দিকে পৌরসভার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে আপনজনদের নিয়োগ দিয়ে তিনি সমালোচনার পাত্রে পরিণত হন। বিরোধীপক্ষ তার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ছাড়াও আরও অনেক অভিযোগ তুলতে থাকে। জনাব 'ক' সকল অভিযোগ তদন্ত করে দেখবেন এবং প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি দিবেন- এই মর্মে আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। কিন্তু পৌরসভার সচিবের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তিনি সফল হতে পারেননি। ফলে পৌরসভায় স্থায়ী অরাজকতা ও অশান্তি সৃষ্টি হয়।

Dhaka · 2017

ক
'যুন্নুরাইন' অর্থ কী?

উত্তর

'যুন্নুরাইন' অর্থ দুই জ্যোতি বা নূরের অধিকারী।
খ
হযরত ওসমান (রা) কীভাবে খলিফা নির্বাচিত হন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

সাহাবিদের দ্বারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ওসমান (রা) খিলাফত লাভ করেন। খলিফা নির্বাচনের জটিলতা এড়াতে হযরত ওমর (রা) মৃত্যুর পূর্বে একটি নির্বাচনি পরিষদ গঠন করেন। যার সদস্য ছিলেন হযরত ওসমান (রা), হযরত আলী (রা), তালহা, যুবাইর, সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস ও আবদুর রহমান। হযরত ওমর (রা)-এর মৃত্যুর পর (৬৪৪ খ্রি.) খলিফা নির্বাচন নিয়ে একটি বৈঠক বসে। তালহা এ সময় মদিনায় উপস্থিত ছিলেন না এবং আব্দুর রহমান খিলাফতের গুরুভার নিতে সম্মত ছিলেন না। আব্দুর রহমান, যুবাইর, ওসমান ও আলীকে সমর্থন করেন। অন্যদিকে, সাদ ওসমানকে, ওসমান আলীকে এবং আলী ওসমানকে সমর্থন করেন। ফলে এক ভোট বেশি পেয়ে হযরত ওসমান ৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দে মুসলিম বিশ্বের তৃতীয় খলিফা নির্বাচিত হন।
গ
উদ্দীপকের সচিবের সাথে খলিফা ওসমান (রা) এর প্রশাসনের কোন চরিত্রের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের সচিবের সাথে হযরত ওসমান (রা) এর প্রশাসনের প্রধান উপদেষ্টা মারোয়ানের মিল রয়েছে। ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রা) একজন উদার এবং জনকল্যাণকামী শাসক হওয়া সত্ত্বেও কতিপয় দুষ্কৃতকারীদের ষড়যন্ত্রে মিথ্যা অভিযোগে তাকে হত্যার শিকার হতে হয়েছে। প্রশাসনিক স্বার্থে এবং খিলাফতের স্থিতিশীলতার জন্য তিনি বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। কিন্তু কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তার এসব উদ্যোগকে গণতন্ত্র বিরোধী এবং স্বজনপ্রীতিমূলক বলে অভিযোগ দেয়। যদিও তিনি এসব অভিযোগ খণ্ডাতে পেরেছিলেন, কিন্তু লোভী, বিশ্বাসঘাতক মারোয়ানের চক্রান্তে তাকে প্রাণ দিতে হয়েছে। উদ্দীপকে বর্ণিত সচিবের মধ্যেও এ ধরনের বিশ্বাসঘাতকতামূলক কর্মকান্ডের প্রতিফলন লক্ষণীয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, পৌরসভার চেয়ারম্যান জনাব 'ক' তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহের সঠিক তদন্ত ও শাস্তির ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও সচিবের ষড়যন্ত্রে তিনি সফল হতে পারেননি। একইভাবে হযরত ওসমান (রা) খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়ে (৬৪৪) প্রথম ছয় বছর বেশ সুনামের সাথে শাসনকার্য পরিচালনা করেন। এরপর তার বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরু হয়। তিনি একটু উদার এবং সরলমনা ছিলেন। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে খিলাফতের প্রধান উপদেষ্টা এবং খলিফার চাচাত ভাই ও জামাতা মারোয়ান বেশ কিছু ধ্বংসাত্মক নীতি গ্রহণ করেন। স্বার্থপর ও কূটনীতিবিদ মারোয়ানের উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রের সমস্ত ক্ষমতা করায়ত্ত করা। তাই তিনি উমাইয়াগণকে রাষ্ট্রীয় উচ্চপদে নিয়োগ দেন এবং হাশেমিদের অপসারণ করেন। হাশেমিদের ধনে-মানে দুর্বল করে উমাইয়াদের সুপ্রতিষ্ঠিত করাই ছিল তার একমাত্র উদ্দেশ্য। এ নীতি খিলাফতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এর ফলে খিলাফতের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়। মারোয়ানের কুচক্রান্ত ও স্বার্থনীতি খলিফার বিরুদ্ধে বিদ্রোহকে উস্কে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত তার বিশ্বাসঘাতকতায় খলিফা ওসমান (রা) কে মিথ্যা অভিযোগে প্রাণ দিতে হয়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, চরিত্রগত দিক দিয়ে মারোয়ান এবং উদ্দীপকের সচিব একে অন্যের প্রতিরূপ।
ঘ
উদ্দীপকে আনীত অভিযোগের আলোকে খলিফা ওসমান (রা) এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ পর্যালোচনা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে আনীত অভিযোগের মতো খলিফা ওসমান (রা)-এর বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ এনে দুষ্কৃতকারীরা তাকে হত্যা করেছিল। কিন্তু এসব অভিযোগ ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং কল্পনাপ্রসূত। ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রা) ছিলেন সরলমনা ও উদার প্রকৃতির। প্রশাসনিক সুবিধার্থে তিনি রদবদল সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্ত নিলেও তা অযৌক্তিক ছিল না। কিন্তু তার সরলতার সুযোগ নিয়ে অনেকে তার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ আনে, যা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও ভিত্তিহীন। উদ্দীপকেও এ বিষয়টির প্রতিফলন লক্ষণীয়। উদ্দীপকে দেখা যায় যে, জনাব 'ক' এর বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ আনা হয়, যা ছিল ষড়যন্ত্রমূলক। অনুরূপভাবে হযরত ওসমানের বিরুদ্ধেও বেদুইন ও অনারব মুসলমানগণ স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আনে। কিন্তু তিনি আত্মীয়স্বজনের প্রতি কিছুটা দুর্বল থাকলেও কোনো অনুপযুক্ত আত্মীয়কে কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগদান করেননি। পরিস্থিতির কারণে তিনি গভর্নর পরিবর্তন করলেও গভর্নর তার আত্মীয় ছিল না। হযরত ওসমান (রা)-এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুতর অভিযোগ ছিল কুরআন শরিফ দন্ধীকরণ। তার রাজত্বকালে ইসলামি রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলের জনসাধারণ নিজেদের সুবিধার্থে কুরআনের ভাষা ও উচ্চারণ পরিবর্তন করে পাঠ করতে থাকে। তাই তিনি কুরআন শরিফের উচ্চারণগত সমস্যা দূর করার জন্যই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং ত্রুটিপূর্ণ ও অসংগতিপূর্ণ কপিগুলো পুড়িয়ে ফেলেছিলেন। বায়তুল মালের অর্থ আত্মসাৎ তো দূরের কথা বরং তিনি নিজের সম্পদ ইসলামের জন্য অকাতরে দান করেছেন। সরকারি চারণভূমি রাষ্ট্রীয় পশুপালনের জন্য ব্যবহার করেছিলেন এবং এক্ষেত্রে তিনি তার পূর্বের দুইজন খলিফাকে অনুসরণ করেছিলেন। রাষ্ট্রের শান্তি ও নিরাপত্তা বিধানের জন্যই তিনি আবু জর গিফারিকে নির্বাসন দিয়েছিলেন। পরিশেষে বলা যায়, ওসমান (রা)-এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ছিল ভিত্তিহীন।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

জনাব 'ক' পৌরসভার নির্বাচিত চেয়ারম্যান। মেয়াদের প্রথম দিকে তিনি জনগণের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। কিন্তু মেয়াদের শেষের দিকে পৌরসভার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে আপনজনদের নিয়োগ দিয়ে তিনি সমালোচনার পাত্রে পরিণত হন। বিরোধীপক্ষ তার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ছাড়াও আরও অনেক অভিযোগ তুলতে থাকে। জনাব 'ক' সকল অভিযোগ তদন্ত করে দেখবেন এবং প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি দিবেন- এই মর্মে আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। কিন্তু পৌরসভার সচিবের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তিনি সফল হতে পারেননি। ফলে পৌরসভায় স্থায়ী অরাজকতা ও অশান্তি সৃষ্টি হয়।

Dhaka · 2017

ক
'যুন্নুরাইন' অর্থ কী?

উত্তর

'যুন্নুরাইন' অর্থ দুই জ্যোতি বা নূরের অধিকারী।
খ
হযরত ওসমান (রা) কীভাবে খলিফা নির্বাচিত হন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

সাহাবিদের দ্বারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ওসমান (রা) খিলাফত লাভ করেন। খলিফা নির্বাচনের জটিলতা এড়াতে হযরত ওমর (রা) মৃত্যুর পূর্বে একটি নির্বাচনি পরিষদ গঠন করেন। যার সদস্য ছিলেন হযরত ওসমান (রা), হযরত আলী (রা), তালহা, যুবাইর, সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস ও আবদুর রহমান। হযরত ওমর (রা)-এর মৃত্যুর পর (৬৪৪ খ্রি.) খলিফা নির্বাচন নিয়ে একটি বৈঠক বসে। তালহা এ সময় মদিনায় উপস্থিত ছিলেন না এবং আব্দুর রহমান খিলাফতের গুরুভার নিতে সম্মত ছিলেন না। আব্দুর রহমান, যুবাইর, ওসমান ও আলীকে সমর্থন করেন। অন্যদিকে, সাদ ওসমানকে, ওসমান আলীকে এবং আলী ওসমানকে সমর্থন করেন। ফলে এক ভোট বেশি পেয়ে হযরত ওসমান ৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দে মুসলিম বিশ্বের তৃতীয় খলিফা নির্বাচিত হন।
গ
উদ্দীপকের সচিবের সাথে খলিফা ওসমান (রা) এর প্রশাসনের কোন চরিত্রের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের সচিবের সাথে হযরত ওসমান (রা) এর প্রশাসনের প্রধান উপদেষ্টা মারোয়ানের মিল রয়েছে। ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রা) একজন উদার এবং জনকল্যাণকামী শাসক হওয়া সত্ত্বেও কতিপয় দুষ্কৃতকারীদের ষড়যন্ত্রে মিথ্যা অভিযোগে তাকে হত্যার শিকার হতে হয়েছে। প্রশাসনিক স্বার্থে এবং খিলাফতের স্থিতিশীলতার জন্য তিনি বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। কিন্তু কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তার এসব উদ্যোগকে গণতন্ত্র বিরোধী এবং স্বজনপ্রীতিমূলক বলে অভিযোগ দেয়। যদিও তিনি এসব অভিযোগ খণ্ডাতে পেরেছিলেন, কিন্তু লোভী, বিশ্বাসঘাতক মারোয়ানের চক্রান্তে তাকে প্রাণ দিতে হয়েছে। উদ্দীপকে বর্ণিত সচিবের মধ্যেও এ ধরনের বিশ্বাসঘাতকতামূলক কর্মকান্ডের প্রতিফলন লক্ষণীয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, পৌরসভার চেয়ারম্যান জনাব 'ক' তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহের সঠিক তদন্ত ও শাস্তির ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও সচিবের ষড়যন্ত্রে তিনি সফল হতে পারেননি। একইভাবে হযরত ওসমান (রা) খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়ে (৬৪৪) প্রথম ছয় বছর বেশ সুনামের সাথে শাসনকার্য পরিচালনা করেন। এরপর তার বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরু হয়। তিনি একটু উদার এবং সরলমনা ছিলেন। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে খিলাফতের প্রধান উপদেষ্টা এবং খলিফার চাচাত ভাই ও জামাতা মারোয়ান বেশ কিছু ধ্বংসাত্মক নীতি গ্রহণ করেন। স্বার্থপর ও কূটনীতিবিদ মারোয়ানের উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রের সমস্ত ক্ষমতা করায়ত্ত করা। তাই তিনি উমাইয়াগণকে রাষ্ট্রীয় উচ্চপদে নিয়োগ দেন এবং হাশেমিদের অপসারণ করেন। হাশেমিদের ধনে-মানে দুর্বল করে উমাইয়াদের সুপ্রতিষ্ঠিত করাই ছিল তার একমাত্র উদ্দেশ্য। এ নীতি খিলাফতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এর ফলে খিলাফতের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়। মারোয়ানের কুচক্রান্ত ও স্বার্থনীতি খলিফার বিরুদ্ধে বিদ্রোহকে উস্কে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত তার বিশ্বাসঘাতকতায় খলিফা ওসমান (রা) কে মিথ্যা অভিযোগে প্রাণ দিতে হয়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, চরিত্রগত দিক দিয়ে মারোয়ান এবং উদ্দীপকের সচিব একে অন্যের প্রতিরূপ।
ঘ
উদ্দীপকে আনীত অভিযোগের আলোকে খলিফা ওসমান (রা) এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ পর্যালোচনা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে আনীত অভিযোগের মতো খলিফা ওসমান (রা)-এর বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ এনে দুষ্কৃতকারীরা তাকে হত্যা করেছিল। কিন্তু এসব অভিযোগ ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং কল্পনাপ্রসূত। ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রা) ছিলেন সরলমনা ও উদার প্রকৃতির। প্রশাসনিক সুবিধার্থে তিনি রদবদল সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্ত নিলেও তা অযৌক্তিক ছিল না। কিন্তু তার সরলতার সুযোগ নিয়ে অনেকে তার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ আনে, যা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও ভিত্তিহীন। উদ্দীপকেও এ বিষয়টির প্রতিফলন লক্ষণীয়। উদ্দীপকে দেখা যায় যে, জনাব 'ক' এর বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ আনা হয়, যা ছিল ষড়যন্ত্রমূলক। অনুরূপভাবে হযরত ওসমানের বিরুদ্ধেও বেদুইন ও অনারব মুসলমানগণ স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আনে। কিন্তু তিনি আত্মীয়স্বজনের প্রতি কিছুটা দুর্বল থাকলেও কোনো অনুপযুক্ত আত্মীয়কে কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগদান করেননি। পরিস্থিতির কারণে তিনি গভর্নর পরিবর্তন করলেও গভর্নর তার আত্মীয় ছিল না। হযরত ওসমান (রা)-এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুতর অভিযোগ ছিল কুরআন শরিফ দন্ধীকরণ। তার রাজত্বকালে ইসলামি রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলের জনসাধারণ নিজেদের সুবিধার্থে কুরআনের ভাষা ও উচ্চারণ পরিবর্তন করে পাঠ করতে থাকে। তাই তিনি কুরআন শরিফের উচ্চারণগত সমস্যা দূর করার জন্যই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং ত্রুটিপূর্ণ ও অসংগতিপূর্ণ কপিগুলো পুড়িয়ে ফেলেছিলেন। বায়তুল মালের অর্থ আত্মসাৎ তো দূরের কথা বরং তিনি নিজের সম্পদ ইসলামের জন্য অকাতরে দান করেছেন। সরকারি চারণভূমি রাষ্ট্রীয় পশুপালনের জন্য ব্যবহার করেছিলেন এবং এক্ষেত্রে তিনি তার পূর্বের দুইজন খলিফাকে অনুসরণ করেছিলেন। রাষ্ট্রের শান্তি ও নিরাপত্তা বিধানের জন্যই তিনি আবু জর গিফারিকে নির্বাসন দিয়েছিলেন। পরিশেষে বলা যায়, ওসমান (রা)-এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ছিল ভিত্তিহীন।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো