আরব বসন্তের সাথে খলিফা ওসমান (রা) বিরোধী আন্দোলনের মিল হলো উভয় ঘটনায়ই শাসকের পতন ঘটেছে।
হযরত ওসমান (রা) ছিলেন ইসলামের একনিষ্ঠ সেবক। মক্কার শ্রেষ্ঠ ধনীদের তালিকায় তিনি ছিলেন অন্যতম। তিনি সব সময় ইসলামের খেদমতে অর্থ ব্যয় করেছেন। খলিফা নির্বাচিত হয়েও তিনি নিজেকে মানুষের কল্যাণ আর ইসলামের জন্য উৎসর্গ করেছেন। কিন্তু এসবের পরও নানা মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে আন্দোলন হয় এবং এক হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে তার পতন ঘটে। উদ্দীপকেও এ ঘটনার প্রতিফলন লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, আরব বসন্তের প্রভাবে মিসরের শক্তিশালী শাসক হোসনি মোবারকের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে এবং তীব্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। অনুরূপভাবে ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রা) বিরুদ্ধবাদীদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তাদের হাতে তিনি নিহত হন। এভাবে তার খিলাফতের পরিসমাপ্তি ঘটে। তিনি ক্ষমতা লাভের (৬৪৪ খ্রি.) প্রথম ছয় বছর শান্তি, সমৃদ্ধি, গৌরবের সাথে খিলাফত পরিচালনা করলেও দ্বিতীয় ছয় বছর তার খিলাফতে দেখা দেয় বিদ্রাহ, বিশৃঙ্খলা, আর রক্তপাতের করুণ কাহিনি। বায়তুল মালের অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, আত্মীয়স্বজনকে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দান, কুরআন শরিফ পোড়ানো, দার্শনিক ও সমাজতাত্ত্বিক আবুজর গিফারিকে নির্বাসন দান প্রভৃতি অভিযোগের ভিত্তিতে একদল লোক তার বিরুদ্ধে হত্যা (৬৫৬ খ্রি.) আন্দোলন শুরু করে এবং এক পর্যায়ে তারা খলিফাকে হত্যা (৬৫৬ করে। এভাবে হযরত ওসমান (রা) এর খিলাফতের অবসান ঘটে। তাই বলা যায় যে, শাসককে ক্ষমতা থেকে অপসারণের দিক দিয়ে আরব বসন্ত এবং ওসমান (রা) বিরোধী আন্দোলন পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ।