ইসলামের ক্রান্তিকালে হযরত আবু বকর (রা) অত্যন্ত দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সাথে রাষ্ট্র সংগঠকের দায়িত্ব পালন করেছেন ।
মহানবি (স)-এর মৃত্যুর পর তাঁর প্রতিনিধি হয়ে হযরত আবু বকর (রা) খিলাফত পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন । তিনি ছিলেন মহানবি (স) এর যোগ্য ও উপযুক্ত প্রতিনিধি। মহান আল্লাহ ও রাসুলের (স) নির্দেশ অনুযায়ী ইসলামের একনিষ্ঠ সেবা করে তিনি ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে স্বীকৃতি পান ।
মহানবি (স)-এর ওফাতের পর মুসলমানদের মধ্যে যে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়েছিল আবু বকর (রা) দক্ষতার সাথে তা দূর করে মুসলিম সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করেন। রাসুল (স)-এর পবিত্র দেহ সমাহিতকরণ ও খলিফা নির্বাচনের সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান করে তিনি ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ের সংকট কাটিয়ে উঠতে অবদান রাখেন । সংকটের এই পরিস্থিতিতে খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি নিয়ন্ত্রণহীন ও বিশৃঙ্খল নাগরিকদের সুনির্দিষ্ট ধর্মীয় অনুশাসন পালনে বাধ্য করেন। এভাবে তিনি ইসলামকে অনিশ্চয়তার হাত থেকে রক্ষা করেন। তাছাড়া জাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারী বেদুইন গোত্রগুলোর (আবস ও জুবিয়ান) বিরুদ্ধে তিনি উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে ইসলামি বিধান অনুযায়ী তাদের জাকাত প্রদানে বাধ্য করেন। তিনি দীনকে (ইসলাম) সব আদর্শের ঊর্ধ্বে প্রতিষ্ঠা করেন। ভণ্ড নবিদের সমুচিত শিক্ষা দিয়ে খলিফা আবু বকর (রা) ইসলামের ভিত্তি নিরাপদ করেন। আমির উল মুমেনীন (বিশ্বাসীদের নেতা) হিসেবে তিনি আরব ভূখণ্ড থেকে প্রতারণা, ভণ্ডামিসহ অনৈসলামিক কার্যকলাপের মূলোৎপাটন করে ইসলামকে নিরাপদ করেন। এছাড়া তিনি বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা পবিত্র কুরআনের বাণীগুলো সংগ্রহ করে পুস্তক আকারে লিখে রাখার ব্যবস্থা করেন।
পরিশেষে বলা যায়, খিলাফত লাভের পর ইসলাম ধর্ম ও মুসলিম রাষ্ট্রের একনিষ্ঠ সেবা করে হযরত আবু বকর (রা) ইসলামি খিলাফতকে রক্ষা করেছেন, এজন্য তাকে নিঃসন্দেহে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা যায়।