সিফফিনের যুদ্ধের ফলে ইসলামের ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় সৃষ্টি হয়, যা মুসলমানদের দ্বিধাবিভক্ত করে।
খুলাফায়ে রাশেদিনের আমলে যতগুলো দ্বন্দ্ব সংঘাত হয় তার মধ্যে সিফফিনের যুদ্ধ ছিল সবচেয়ে বেশি অপ্রত্যাশিত। এ যুদ্ধ ছিল মুসলমানদের জন্য অশনি সংকেত। এর মাধ্যমে মুসলমানদের সম্প্রীতি ভেঙে যায় এবং ইসলামে চিরস্থায়ী বিভক্তির সৃষ্টি হয়।
দুমাতুল জন্দলের রায় গ্রহণযোগ্য ছিল না। কারণ এতে অযৌক্তিকভাবে একজন প্রাদেশিক শাসনকর্তাকে খলিফার সমকক্ষ করা হয়। এটি কোনো যৌক্তিক সমাধান ছিল না। এর ফলে একক অপ্রতিরোধ্য মুসলিম শক্তি তাৎক্ষণিকভাবে তিন ভাগে বিভক্ত হয়। একটি আলি (রা)-এর সমর্থক বা শিয়া। আরেকটি মুয়াবিয়ার দল। অন্য একটি দল যারা হযরত আলি (রা) - এর সেনাদের একটি অংশ। এরা যুদ্ধ বন্ধে রাজি ছিল না। এ দলটি আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাবের নেতৃত্বে 'লাহুকমা ইন্না লিল্লাহ' বা 'আল্লাহর আদেশ ছাড়া কোনো বিধান নেই' ঘোষণা দিয়ে খলিফার দল ত্যাগ করে। এরা খারেজি নামে পরিচিত। দুমাতুল জন্দলের রায়ের মাধ্যমে আলি (রা)- কে মিথ্যা খিলাফতের দাবিদার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যা তার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে। আর মুয়াবিয়াকে আলি (রা)-এর সমান হিসেবে প্রদর্শন করে। হযরত আলি (রা) ও মুয়াবিয়ার দ্বন্দ্ব হাশেমি-উমাইয়া দ্বন্দ্ব পুনরুজ্জীবিত করে। ফলে পরবর্তী সময়ে কারবালার মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। দুমাতুল জন্দলের সালিশের একটি সন্ধি মোতাবেক সিরিয়া ও মিসর মুয়াবিয়ার শাসনাধীনে ন্যস্ত হয়। মুসলিম জাহানের বাকি অংশ আলি (রা)-এর অধীনে থাকে। এতে খিলাফতের বিভক্তি ঘটে। সিফফিনের যুদ্ধে পাঁচ হাজার মুসলিম শহিদ হয়। এক পর্যায়ে আলি (রা)-এর হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র ও খিলাফতের অবসান ঘটে এবং বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রের উদ্ভব ঘটে।
পরিশেষে বলা যায়, সিফফিনের যুদ্ধ মুসলমানদের ঐক্য ও সমৃদ্ধি নষ্ট করে। এর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারার অবসান হওয়ায় সত্যিকারের জনকল্যাণমুখী শাসনব্যবস্থার কবর রচিত হয়।