রিদ্দা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি অধ্যায়।
মহানবি (স)-এর ইন্তেকালের পর বিভিন্ন আরব গোত্র ইসলাম ত্যাগ করে আগের ধর্মে ফিরে যাচ্ছিল। এ সুযোগে কিছু ভন্ড নবির আবির্ভাব ঘটে। হযরত আবু বকর (রা) এ সব ধর্মত্যাগী ও ভন্ড নবিদের দমন করার জন্য যে যুদ্ধ পরিচালনা করেন তাই রিদ্দা যুদ্ধ নামে পরিচিত। উদ্দীপকেও এ যুদ্ধের প্রেক্ষাপটের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
উদ্দীপকে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে ভণ্ড পিরের আবির্ভাবের ঘটনায় ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা)-এর শাসনামলে স্বধর্মত্যাগী ও ভণ্ড নবিদের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। রাসুল (স)-এর জীবদ্দশায় আসওয়াদ আনসি নবুয়ত দাবি করে দক্ষিণ আরবে নিজের অবস্থান সুসংহত করে। কিন্তু রাসুল (স)-এর মৃত্যুর দু এক দিন আগে আত্মীয় ফিরোজ দাইলামির হাতে আসওয়াদ আনসি নিহত হয়। রাসুল (স)-এর মৃত্যুর পর মুসায়লামা, তোলায়হা এবং সাজাহ নামে বেশ কয়েকজন ভন্ড নবির আবির্ভাব ঘটে। তাদের প্রবল আন্দোলনে মুসলিম খিলাফতের অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। হযরত আবু বকর (রা) নির্ভীকতা, বিচক্ষণতা ও সত্যনিষ্ঠার মাধ্যমে তাদেরকে কঠোরভাবে দমন করেন। আবু বকর (রা) সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদের সহায়তায় তোলায়হা, সাজাহ ও মুসায়লামাকে কঠোর হস্তে দমন করেন। এছাড়া আবু বকর (রা) দক্ষিণ সিরিয়ার জাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি প্রকাশকারীদের দমনেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। আর এভাবেই বিভিন্ন ঘটনা ও বিচক্ষণ পরিকল্পনার মাধ্যমে রিদ্দা যুদ্ধ পরিচালিত হয়।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ভন্ড নবি ও স্বধর্মত্যাগীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে হযরত আবু বকর (রা) রিদ্দা যুদ্ধ পরিচালনা করেন।