উদ্দীপকের শাসকের চেয়ে হযরত ওমর (রা) ছিলেন অনেক বেশি সফল প্রশাসক— এ উক্তিটি আমি সমর্থন করি।
হযরত ওমর (রা) ছিলেন একজন আদর্শ খলিফা। তার মতো সুযোগ্য শাসক বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। কোমলতা ও কঠোরতার সমন্বিত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে ওমর (রা) খিলাফতকে একটি সুসংহত রূপ দেন। একজন প্রকৃত খলিফার যেসব বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন তার সবই ওমরের (রা) মাঝে ছিল । কিন্তু উদ্দীপকের শাসকের মধ্যে এর সবটুকু প্রকাশিত হয়নি ।
উদ্দীপকের শাসক একজন সফল বিজেতা ও প্রশাসক ছিলেন বটে । তবে এ সফলতা হযরত ওমর (রা) এর সাফল্যের ঊর্ধ্বে নয়। কারণ হযরত ওমর (রা) ইসলামি সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি সাধন ছাড়াও বহুবিধ সংস্কারমূলক নতুন উদ্যোগ নেন। তিনি সাম্রাজ্যে আরব জাতীয়তাবাদ সৃষ্টি করেন। তিনি মনে করতেন, আরব মুসলমানরা ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যগত দিক দিয়ে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র একটি জাতি। তাই আরব উপদ্বীপকে শুধু আরব মুসলমানদের জন্য সংরক্ষণ করে আরব জাতীয়তাবাদ গঠনে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। তার সামরিক বিচক্ষণতা ও সাংগঠনিক ক্ষমতা সর্বযুগে প্রশংসা অর্জন করেছে। ওমর (রা)-ই প্রথম ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য শাসন বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক করেন। তিনি ছিলেন গণতন্ত্রমনা। তার প্রতিষ্ঠিত 'মজলিশ-উস-শূরা' বা উপদেষ্টা পরিষদ আজও বিশ্ব গণতন্ত্রের জয়গান করছে। মহানবি (স)-এর গণতন্ত্রের বীজ ওমর (রা)-এর ঐক্য, সাম্য ও মৈত্রী নীতিতে এক শক্তিশালী মহীরুহে পরিণত হয়েছিল। ইসলামি সাম্রাজ্যের ব্যাপক বিস্তার লাভের ফলে যখন আয় বৃদ্ধি পায় তখন তিনি বায়তুল মাল বা সরকারি কোষাগার এর সংস্কার ও পুনর্গঠন করেন। এসব অক্ষয়কীর্তির জন্য তিনি ইসলামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছেন। অসহায় অনাথদের সাহায্য করার জন্য খলিফা ওমর (রা) সর্বপ্রথম আদমশুমারির প্রচলন করেন। দুনিয়ার বুকে এমন কীর্তি তুলনাহীন । তিনি ঐক্য, সাম্য ও মৈত্রীর আদর্শে তার শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন ।
উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, উদ্দীপকের শাসক কুতুবউদ্দিন আইবেকের চেয়ে হযরত উমর (রা) ছিলেন অনেক বেশি সফল। এ কারণে প্রশ্নের মন্তব্যটি আমি পরিপূর্ণ সমর্থন করি ।