উদ্দীপকের বাদশাহ নাসিরুদ্দিনের কর্মকাণ্ডের সাথে ইসলামের ইতিহাসের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা)-এর কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে।
হযরত ওমর (রা) হযরত আবু বকর (রা)-এর মৃত্যুর পর ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দের আগস্ট মাসে খলিফা হিসেবে দায়িত্ব পান। তিনি এমন জনদরদি শাসক ছিলেন যে, প্রজাদের দারিদ্র্য, ক্ষুধা এবং অভাবের কারণে কোনো প্ৰজা কষ্টে আছেন কি না তা দেখা ও জানার জন্য রাতের বেলা ছদ্মবেশে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াতেন। তিনি ভাবতেন তার সাম্রাজ্যে যদি কেউ কষ্টে থাকেন তাহলে আল্লাহর কাছে তাকে অপরাধের শাস্তি পেতে হবে। এজন্য তিনি নিজে অভাবীদের দুয়ারে খাদ্য পৌঁছে দিতেন। এমনকি প্রসূতির প্রসব যন্ত্রণা দূর করতে নিজ স্ত্রীকে প্রেরণ করতে দ্বিধা করতেন না ।
হযরত ওমর (রা)-এর মতোই জনদরদি শাসক ছিলেন দিল্লির বাদশা নাসিরুদ্দিন। নাসিরুদ্দিনের রাতের অন্ধকারে প্রজাদের খোঁজ রাখা, প্রসূতির প্রসব যন্ত্রণায় সাহায্য করা প্রভৃতি জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড হযরত ওমর (রা)-এর কর্মকাণ্ডকে তুলে ধরে। সুতরাং, প্রজাহিতৈষী শাসনকার্য বিবেচনায় উদ্দীপকের শাসক হযরত ওমর (রা)-এর আদর্শ ধারণ করেছে।