উদ্দীপকের খলিফা আল মাহদীর কার্যক্রমের সাথে খলিফা হযরত আবু বকর (রা)-এর কার্যক্রমের সাদৃশ্য রয়েছে।
মহানবি (স)-এর ইন্তেকালের পর বিভিন্ন আরব গোত্র স্বধর্ম ত্যাগ করে পূর্ব ধর্মে ফিরে যাচ্ছিল। এই সুযোগে কতিপয় ভণ্ড নবির আবির্ভাব ঘটে। স্বধর্মত্যাগী ও ভণ্ড নবিদের প্রবল আন্দোলনে নবপ্রতিষ্ঠিত ইসলামি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়লে হযরত আবু বকর (রা) তার নির্ভীকতা, বিচক্ষণতা ও সত্যনিষ্ঠার দ্বারা স্বধর্মত্যাগী ও ভণ্ড নবিদের আন্দোলন দমন করে রাষ্ট্রকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেন। উদ্দীপকেও এমন ঘটনা পরিলক্ষিত হয় ।
আব্বাসি খলিফা আল মাহদীর রাজত্বকালে হাশিম বিন হাকিম বা মুকান্না নামের একজন ভণ্ড নবির আবির্ভাব ঘটে। তিনি নিজেকে নবি বলে দাবি করে নিজের অনেক অনুসারীও তৈরি করেন। খলিফা আল মাহদী মুকান্নাকে কঠোর হস্তে দমন করেন। খোরাসানের জাকাত প্রদানে অনীহা প্রকাশকারীদেরকে তিনি কঠোর শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। অনুরূপভাবে ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা)-এর শাসনামলে আসওয়াদ আনসি, মুসায়লামা, তোলায়হা এবং সাজাহ নামের বেশ কয়েকজন ভণ্ড নবির আবির্ভাব ঘটে। এ সময় ফিরোজ দাইলামীর নেতৃত্বে আসওয়াদ আনসি নিহত হয়। আবু বকর (রা) খালিদ বিন ওয়ালিদকে প্রেরণ করে তোলায়হা, সাজাহ ও মুসায়লামাকে কঠোর হস্তে দমন করেন। এছাড়া আবু বকর (রা) দক্ষিণ সিরিয়ায় জাকাত অস্বীকারকারীদের কঠোর হস্তে দমন করেন। এ ঘটনা ইতিহাসে রিদ্দার, যুদ্ধ নামে পরিচিত। সুতরাং বলা যায়, খলিফা আল মাহদীর ঘটনার সাথে আবু বকর (রা)-এর রিদ্দা বা স্বধর্মত্যাগীর বিরুদ্ধে আন্দোলন পরিচালনার সুস্পষ্ট মিল রয়েছে।