উদ্দীপকে গাজান খানের সাথে খোলাফায়ে রাশেদিনের খলিফা আবু বকর (রা.)-এর মিল রয়েছে।
উদ্দীপকের গাজান খান ইলখানি শাসকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ছিলেন। তিনি সংকটময় মুহূর্তে ক্ষমতা গ্রহণ করে স্বীয় মেধা ও যোগ্যতা দ্বারা হারানো রাজ্য পুনরুদ্ধার করেন। তিনি সকল বিশৃঙ্খলা ও বিদ্রোহ দূর করে সাম্রাজ্যকে রক্ষা করেন। যার ফলে তাকে ইলখানি রাজ্যের রক্ষাকারী বলা হয়। গাজান খানের সাথে খলিফা আবু বকরের মিল রয়েছে। কেননা তিনি খলিফা হয়ে অনুরূপ কার্যসম্পাদন করেন। তিনি যখন ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে ক্ষমতা গ্রহণ করেন তখন ইসলামি খিলাফতে চরম, অরাজকতা ও অশান্তি বিরাজমান ছিল। খিলাফত লাভের পর আবু বকরকে (রা.) অনেক সমস্যা ও বাধাবিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়। হযরতের (সা.) মৃত্যুর সংবাদে সমগ্র আরবে বিদ্রোহ, বিশৃঙ্খলা আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। যে সমস্ক গোত্র সবেমাত্র পৌত্তলিকতা বর্জন করেছিল তারা পুনরায় পাপের দিকে ধাবিত হলো এবং সে সমস্ত প্রবঞ্চক মহানবির (সা.) জীবদ্দশায় দূরবর্তী প্রদেশে আত্মপ্রকাশ করেছিল, তখন তারাও মুসলমানদের ওপর নানাভাবে অত্যাচার শুরু করে। অল্পদিনের মধ্যে ইসলাম ধর্ম মদিনা নগরীতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। আরব উপদ্বীপের প্রতিমা উপাসক যাযাবর সম্প্রদায়সমূহের বিরুদ্ধে এ একটি নগরকে পুনরায় যুদ্ধার্থে দন্ডায়মান হতে হলো। এ প্রসঙ্গে জনৈক আরব ঐতিহাসিক বলেন, "বিশ্বাসিগণ রাখালহীন 'মেষপালের মতো বিচরণ করছিল, তাঁদের নবি নেই, তারা সংখ্যায় অল্প এবং তাদের দুশমনের দল সংখ্যাতীত।" হযরত মুহাম্মদ (সা.)- এর অসুস্থতা ও ওফাতের সংবাদ সারা আরবে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এতে শিশু মদিনা রাষ্ট্রকে উৎখাত করার জন্য ইসলাম বিরোধী শক্তি একত্র হতে থাকে। বিশেষ করে আবস ও জুবিয়ান গোত্র এবং বেদুইনরা মদিনা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু আবু বকর (রা.) তাদের দমন করে ইসলামি রাষ্ট্রকে রক্ষা করেন।