উদ্দীপকের ধর্ম ও রাষ্ট্রের প্রতি হুমকিস্বরূপ উল্লেখিত কর্মকাণ্ডের তুলনায় রিদ্দা আন্দোলন ছিল আরও ভয়াবহ ও সুদূরপ্রসারী। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা) এর ইন্তেকালে হেজাজ ছাড়া প্রায় পুরো আরবে ইসলাম ধর্ম ও নব প্রতিষ্ঠিত মদিনা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড বিদ্রোহ শুরু হয়। আরববাসীর অনেকে ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে স্বধর্মে ফিরে যায়। ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা মাথাছাড়া দিয়ে উঠে। এদের বিদ্রোহ সমগ্র আরবে চরম অস্থিতিশীল ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। তবে উদ্দীপকে এত মারাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, যশোধর সিং ধর্মব্যবসার মাধ্যমে প্রচুর অর্থের মালিক হন। তবে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে কোন আন্দোলন বা বিদ্রোহ জাননি। আর তার তাৎপরতা প্রতিরোধ দেশের জন্য কোন সুদুরপ্রসারি ফলও বয়ে আনেনি। কিন্তু অপর দিকে দেখা যায়, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবদ্দশায় অনেক ভন্ড নবীর আগমন ঘটেছিল।তার ইন্তেকালের পর ভন্ড নবীরা নবুয়তকে একটি লাভজনক ব্যবসা মনে করেছিল। তাই তারা আরবের বিভিন্ন গোত্র ও শ্রেণীর বিভ্রান্তদের নিয়ে ইসলাম ধ্বংসের ঘৃণ্য বিদ্রোহে লিপ্ত হয়েছিল । এই বিদ্রোহই রিদ্দা আন্দোলন নামে পরিচিত। এ যুদ্ধে যোগ্য সেনাপতিদের দুর্বার ভূমিকার কারণে মুসলমানরা জয় লাভ করে। এ জয়ের ফলে আরব থেকে পৌত্তলিকরা চিরতরে বিলুপ্ত হয় এবং আল্লাহর একত্ববাদ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। রিদ্দা যুদ্ধে জয়লাভের ফলে ইসলাম রাষ্ট্র ধ্বংসের হাত থেকে চিরদিনের মতো রক্ষা পায় এবং মুসলমানদের শক্তি ও শৃঙ্খলার কথা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। মদিনা রাষ্ট্র বিচ্ছিন্নতাবাদ আন্দোলন থেকে রক্ষা পায় এবং মুসলিম জাতি নববলে বলীয়ান হয়। এই যুদ্ধে জয় লাভের ফলে ইসলামের রাষ্ট্রের আয়ের পথ বেড়ে যায। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের কাছ থেকে যাকাত সংগ্রহীত হওয়ার ফলে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নতি হয় ইসলাম সম্পর্কে মুসলমানদের সন্দেহের অবসান হয় এবং তাদের মনে উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং আশার আলো সঞ্চারিত হয়। সুতরাং বলা যায় উদ্দীপকের, উদ্দীপকের কর্মকাণ্ডে তুলনায় রিদ্দা আন্দোলন ছিল ভয়াবহ ও সুদূরপ্রসারী।