উদ্দীপকে উল্লেখিত হযরত ওমর (রা)-এর রাজস্ব ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছিল সবচেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ ।
ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা)-এর কেন্দ্রীয় প্রশাসন ব্যবস্থার অন্যতম ছিল রাজস্ব বিভাগ। তিনি গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার জন্য মজলিশ-উস-শুরা প্রতিষ্ঠা করেন। উদ্দীপকে যার আংশিক প্রতিফলন লক্ষণীয়।
ইসলামি রাষ্ট্রের বিশালতা এবং সুষ্ঠু রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবেশ উদ্দেশ্যে হযরত ওমর (রা) রাজস্ব ব্যবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করেন। তিনি ভূমি রাজস্বের সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা প্রণয়নের জন্য দিওয়ান উল খারাজ প্রতিষ্ঠা করেন। জাকাত, জিজিয়া, খারাজ, আল-ফাই, উশর, উশুর প্রভৃতি উৎস থেকে রাজস্ব আদায় করেন। তিনি জমির গুণগত মান, উৎপাদনের পরিমাণ, সেচের সুবিধা ইত্যাদি বিবেচনা করে উৎপন্ন ফসলের সর্বোচ্চ অংশ এবং সর্বনিম্ন ১/৫ অংশ খাজনা হিসেবে আদায়ের ব্যবস্থা করেন। তিনি অমুসলমানদের জন্য জিজিয়া কর প্রণয়ন করেন । হযরত ওমর (রা) ছিলেন মনেপ্রাণে একজন গণতান্ত্রিক ব্যক্তিত্বসম্পূর্ণ মানুষ। তিনি বলতেন পরামর্শ ব্যতীত কোনো খিলাফত চলতে পারে না । তাই তিনি প্রশাসনিক ব্যবস্থায় মজলিশ-উস-শুরা বা পরামর্শ পরিষদ গঠন করেন। গণতান্ত্রিক চেতনা বাস্তবায়ন এবং জনগণের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতকরণই ছিল এর মূল লক্ষ্য। তাই বলা যায় যে, রাজস্ব সংস্কার ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু করলে হযরত ওমর (রা) যে অবদান রেখেছেন তা চিরসম্মরণীয় ।