উদ্দীপকের আরশাদ মিয়ার কর্মকাণ্ডের সাথে হযরত উসমান (রা.)-এর প্রশাসনিক রদবদলের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের আরশাদ মিয়া একটি সিরামিক ইন্ডাস্ট্রির কর্ণধার। তার বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ তোলা হয়। যার একটি হলো- আপনজনদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ এবং অপরটি হলো- প্রতিষ্ঠানের আয়ের বিরাট অংশ স্বজনদের অন্যায়ভাবে দান করা। উদ্দীপকের এ ঘটনার সাথে হযরত উসমান (রা.)-এর ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রশাসনিক রদবদল কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে।
হযরত উসমান (রা.)-এর বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ ছিল যে, তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর ঘনিষ্ঠ সাহাবিদের অপসারণ করে, নিজের আত্মীয়স্বজনকে প্রাদেশিক শাসনকর্তা পদে নিযুক্ত করেন। কুফায় সাদ বিন আবি ওয়াক্কাসকে, বসরায় আব্দুল্লাহ ইবনে আমিরকে, মিশরে তাঁর দুধ ভাই আব্দুল্লাহকে এবং সিরিয়ার হযরত মুয়াবিয়াকে প্রাদেশিক হিসেবে গভর্নর নিয়োগ করে। হযরত উসমান (রা.)-এর বিরুদ্ধে অন্যতম একটি অভিযোগ ছিল তিনি বায়তুল মালের (সরকারি কোষাগার) অর্থ তাঁর আত্মীয়স্বজনদের দান করেছেন। তিনি রাজকোষ। শূন্য করেছেন এবং সরকারি সম্পত্তি উমাইয়াদের মাঝে বিতরণ করেছেন। ব্যক্তি উসমান (রা.)-কে বিচার করলে দেখা যায়, তিনি ছিলেন ধনী, দানবীর, খোদাভীরু, ধৈর্যশীল, অমায়িক ও সহনশীল ইত্যাদি। তিনি সহনশীলতার প্রতীক ছিলেন বিধায় রক্তপাত পছন্দ করতেন না। তাঁর মতো ব্যক্তি সরকারি অর্থ ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করতে পারেন না। ঐতিহাসিক তাবারির মতে, তিনি সরকারি অর্থের অপচয় করা তো দূরে থাক, খলিফা হিসেবে বায়তুল মাল হতে এক কপর্দকও গ্রহণ করতেন না।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের আরশাদ মিয়ার কর্মকান্ডের সাথে উসমান (রা.)-এর কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে।