উদ্দীপকে খলিফা আবু বকর (রা.)-এর শাসনামলের রিদ্দা তথা স্বধর্মত্যাগীদের আন্দোলনের মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, অনেকে ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে মানুষকে শোষণ করে এবং জাগতিক ও ঐশ্বরিক ক্ষমতার অধিকারী বলে দাবি করে। মানুষ তাদের বিশ্বাস করে ও ভক্তি করে। অনুরূপ হযরত আবু বকর (রা.)-এর সময়ে জাগতিক সম্মানের লোভে কতিপয় ব্যক্তি। নিজেকে নবি বলে দাবি করে। তাদের প্ররোচনায় অনেক মানুষ বিভ্রান্ত হয় এবং কেউ পূর্বের ধর্মে ফিরে যেতে থাকে, কেউ যাকাত দিতে অস্বীকার করে এর ফলে বিদোহ সৃষ্টি হয়। যা রিদ্দা নামে পরিচিত। হযরত আবু বকর (রা.) সংকটময় অবস্থায় ইসলামি রাষ্ট্রের ক্ষমতা গ্রহণ করেন। এ সময় মুসলমানরা দলে দলে নিজ ধর্মে ধর্মে ফিরে যেতে থাকে এবং ইহুদি খ্রিষ্টানরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। তাছাড়া হেজাজ প্রদেশ ছাড়া সমগ্র আরব বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। মহানবি (সা.) শেষ নবি হলেও তাঁর মৃত্যুর পর মুসায়লামা, সাজাহ, তোলায়হা, আসাদ নিজেদের নবি হিসেবে দাবি করে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। এ পরিস্থিতিতে হযরত আবু বকর (রা) তার সেনাদলকে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করে এসব ভণ্ডনবিদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেন। তার সুযোগ্য । নেতৃত্বে ভন্ডনবিরা পরাজিত হয় এবং ইয়ামামার যুদ্ধে মুসায়লামার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে তাদের চূড়ান্ত পরাজয় ঘটে। আল্লাহর আদেশ নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিককে শতকরা আড়াই ভাগ যাকাত দিতে হবে। কিন্তু মহানবি (সা.)-এর মৃত্যুর পর ইয়েমেন, ইয়ামামা ও ওমানের লোকেরা যাকাত প্রদানে অস্বীকার করলে হযরত আবু বকর (রা) তাদের কঠোর হস্তে দমন করে এ ইসলামি বিধান জারি রাখেন। তিনি স্বীয় কৃতিত্ববলে শিশু ইসলামি রাষ্ট্র মদিনাকে রক্ষা করেন এবং ইসলামের ত্রাণকর্তা উপাধি লাভ করেন।
পরিশেষে বলা যায়, হযরত আবু বকর (রা.)-এর সময়ে উদ্দীপকের মতো ভণ্ডধর্মীয় শ্রেণির আবির্ভাব ঘটে এবং অনেকে যাকাত দিতে ! অস্বীকার করে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। যা রিদ্দার ঘটনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।