"হযরত ওসমান (রা.) এর হত্যাকাণ্ডের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী"—উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটি নিম্নে বিশ্লেষণন করা হলো: স্বজনপ্রীতি, অর্থ আত্মসাৎ এবং সরকারি চারণভূমি নিজের কাজে ব্যবহার করা প্রভৃতি অভিযোগের ভিত্তিতে সাম্রাজ্যের বিভিন্ন স্থান থেকে বিরোধীরা হযরত ওসমান (রা.) এর বাসগৃহ অবরুদ্ধ করে তালে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডের ফলে খিলাফতের ধর্মীয় নৈতিক মর্যাদা এবং ইসলামের রক্ষা মারাত্মকভাবে ভূলুণ্ঠিত হয়। ফলে খিলাফতের প্রতি মুসলমানদের অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা ও ভক্তি ক্রম শীতল হয়ে পড়ে। হযরত ওসমান (রা.) এর মৃত্যুতে মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্য দেখা যায়। পরবর্তী সময়ে উষ্ট্রের যুদ্ধ ও সিফফিনের যুদ্ধ হয়। এই হত্যাকাণ্ডের জের ধরেই পরবর্তীতে পুরাতন নদীর তীরে অবস্থিত কারবালা প্রান্তরে মহানবীর নাতি ইমাম হোসেন শহীদ হন। মূলত এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই গৃহযুদ্ধ সৃষ্টি হয়ে যার ফলে মুসলমানরা দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়ে। এ সময় মুসলিম সমাজের সুন্নী, শিয়া, খারেজি ইত্যাদি ধর্মীয় রাজনৈতিক দল ও সম্প্রদায়ের উদ্ভব হয়। এই হত্যাকাণ্ডের ফলে যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয় সে দ্বন্দ্ব থেকেই হযরত আলীর মৃত্যুর পর মুয়াবিয়া উমাইয়া খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেন। মুয়াবিয়া ইমাম হাসানকে খিলাফত আগে বাধ্য করে নিজের পুত্র ইয়াজিদকে উত্তরাধিকারী হিসেবে মনোনয়ন করেন। এর মধ্য দিয়ে খিলাফাতে গণতান্ত্রিক পদ্ধতির পরিবর্তে বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র চালু হয়। তাই বলা যায়, হযরত ওসমান (রা.) এর হত্যাকাণ্ডের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। কেননা এর মধ্য দিয়ে মুসলিম জাহান অপূর্ণ ক্ষতির সম্মুখীন হয়। মুসলমানদের ঐক্য বিনষ্ট হয় ও বিভেদ সৃষ্টি হয়। যে বিভেদ মুসলিম সমাজে আজও বিদ্যমান।