উক্ত খলিফা তথা হযরত ওসমান (রা.) এর উপর আনীত অভিযোগ সম্পর্কে আমার মতামত নিম্নে যুক্তির আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো:হযরত ওসমান (রা.) এর শাসনকালের শেষের দিকে তার বিরুদ্ধে কিছু বিরোধীরা বিভিন্ন অভিযোগ আনেন। তারা হযরত ওসমান (রা.) এর বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, কুরআন শরীফ দগ্ধকরণ, বায়তুল মালের অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি চারণভূমি নিজস্ব কাজে ব্যবহার, অন্যায় নির্বাসন, বাজারে অন্যায় আধিপত্য, ভাতা স্থগিত করা এসব অভিযোগ আনে। মূলত এগুলো ছিল ভিত্তিহীন অভিযোগ এবং হযরত ওসমান (রা.) এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক প্রচেষ্টা। তারা হযরত ওসমান (রা.) এর উপর স্বজন প্রীতির অভিযোগ আনে। তিনি আত্মীয় স্বজনদের প্রতি কিছুটা দূর্বল ছিলেন কিন্তু তিনি তার কোন অনুপযুক্ত আত্মীয়কে কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেন নি। জনগণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি দায়িত্ব দেওয়া গভর্নরকে পরিবর্তন করেন কিন্তু সকল গভর্নর তার আত্মীয় ছিলেন না। কুরআন শরীফের উচ্চারণগত সমস্যা দূর করার জন্য তিনি আর একটি উদ্যোগ নিয়েছিলেন। যার কারনে তিনি ত্রুটিপূর্ণ ও অসংগতিপূর্ন কপি গুলো পুড়িয়ে ফেলেন। মূলত কোরআন শরীফ সংকলনই ছিল এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। কেননা এই অসম্পূর্ণ কপি গুলো থাকলে বরং মুসলমানদেরই অকল্যাণ হতো। হযরত ওসমান (রা.) ছিলেন আরবের শ্রেষ্ঠ ধনীদের মধ্যে একজন। তিনি ছিলেন অঢেল ধন সম্পদের মালিক। তিনি তার সম্পত্তিগুলো ইসলামের সেবায় অকাতরে দান করেছিলেন। তাই তার বিরুদ্ধে বায়তুল মালের সামান্য অর্থাৎ এর অভিযোগ কোন ভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। তাছাড়া তিনি সরকারি চারণভূমি নিজের ব্যক্তিগত ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার হয় বরং রাষ্ট্রীয় পশু পালনের জন্য ব্যবহার করেছিলেন। আর রাষ্ট্রীয় পশু নিশ্চয়ই কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারে না। তাই পরিশেষে বলা যায়, খলিফা হযরত ওসমান (রা.) ছিলেন একজন শান্তিপ্রিয় ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি। তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো যুক্তির মাধ্যমে সমাধান করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ওই সবগুলো মিথ্যা অভিযোগ হওয়ায় বিরোধীরা এ বিষয়ে এগিয়ে আসেননি। তাই সহজেই বুঝা যায় অভিযোগগুলো ছিল মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।