"উদ্দীপকের শাসকের চেয়েও হযরত ওমর (রা.) ছিলেন আরও অধিকতর সফল প্রশাসক" উক্তিটি যথাযথভাবে আমি সমর্থন করি। নিম্নে যুক্তিসহ মতামত বিশ্লেষণ করা হলো :উদ্দীপকের শাসক তথা কুতুবুদ্দিন আইবেক প্রশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কার সাধন করেন। এর মধ্যে দিয়ে একটি শক্তিশালী প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলেন। হযরত ওমর (রা.) বিশাল সাম্রাজ্যকে সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য তিনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। উদ্দীপকের সুলাইমান এর মত তিনিও সাম্রাজ্যে ন্যায় শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। সমগ্র সাম্রাজ্যকে সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য তিনি ১৪ টি প্রদেশে বিভক্ত করেন। সবগুলো প্রদেশকে আবার জেলা এবং জেলা কে মহাকুমা বিভক্ত করেন। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্বের প্রথম শাসক হিসেবে তিনি শাসন বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক করেন। হযরত ওমর (রা.) এর প্রতিষ্ঠিত মজলিস উস শুরা বা উপদেষ্টা পরিষদ আজও বিশ্ব গণতন্ত্রের জয়গান করছে। অসহায়দের অভাব দূর করার জন্য তিনি বায়তুল মাল প্রতিষ্ঠা করেন এবং অসহায়দের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করেন। সাম্রাজ্যকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য তিনি প্রথমবারের মতো আদমশুমারি প্রচলন করেন।হযরত ওমর (রা.) এর শাসনব্যবস্থা ছিল জনকল্যাণমুখী। জনগণের যেনো কষ্ট না হয় সেদিকেই ছিলে তার চিন্তা। জনহিতকর কাজের জন্য তিনি কোন বিভাগ গঠন না করলেও বিভিন্ন রাজস্ব থেকে সংগৃহীত অর্থ তিনি জনকল্যানে ব্যয় করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাট, সেতু, নালা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেন। পানি নিষ্কাশন ছাড়াও তিনি পানি সরবরাহ ও নৌ চলাচলের জন্য বড় খাল খনন করেন। তার আমলেই সেনাপতি আমর ইবনুল আস সুয়েজ খাল খনন করে লোহিত ও ভূমধ্যসাগরে নৌ চলাচলের সুযোগ করে দেন। দজলা থেকে নাহরুল মাকীম লোহিত সাগর ও নীলনদের যোগাযোগকারী নাহরু আল মুমিনীন, বসরায় নহরু আবু মুসা ইত্যাদি খাল পানি সরবরাহ ও নৌ পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হতো। এছাড়াও দজলা ও ফোরাতনদী থেকে অনেক খাল খনন করে পতিত জমি আবাদযোগ্য করেন। তিনি এসব বাঁধ ও খাল পর্যবেক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কর্মচারী ইউনিয়ন দেন। তিনি কুফা, বসরা, ফুসতাত, মসুল প্রভৃতি নগরীর গোড়াপত্তন করেন। তাই বলা যায়, "উদ্দীপকের শাসকের চেয়েও হযরত ওমর (রা.) ছিলেন আরও অধিকতর সফল প্রশাসক" উক্তিটি যথাযথ ও সঠিক।