হযরত ওমর (রা) গঠিত মজলিশ-উস-শুরা বা পরামর্শ সভার মাধ্যমেই তার প্রশাসন পরিচালিত হতো। এটি গণতান্ত্রিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনায় কার্যকর ভূমিকা রাখে।
ইসলামি রাষ্ট্র পরিচালনায় মজলিশ-উস-শুরার ব্যাপক ভূমিকা ছিল। শাসনকার্যের স্বচ্ছতা, নাগরিকের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, বিচারকার্যসহ রাষ্ট্র পরিচালনা বিষয়ে সকল সিদ্ধান্ত মজলিশ-উস-শুরার পরামর্শ অনুসারেই গ্রহণ করা হতো। হযরত ওমর (রা) ঘোষণা করেছিলেন, “পরামর্শ ছাড়া খিলাফত চলতে পারে না।” বিচারকাজে কঠোরতা প্রদর্শন ছিল এ পরামর্শসভার উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ।
খলিফা ওমর (রা)-এর গঠিত 'মজলিশ-উস-শুরা' দৈনন্দিন ও বাৎসরিক প্রশাসনিক কাজের ব্যাপারে রাষ্ট্রপ্রধানকে পরামর্শ প্রদান করত। সুষ্ঠুভাবে একটি রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য শক্তিশালী কেন্দ্রীয় প্রশাসন প্রয়োজন, যা উদ্দীপক ও ওমর (রা)-এর শাসনব্যবস্থায় লক্ষণীয়। তবে হযরত ওমর (রা) গণতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন । তাই তিনি পরামর্শভিত্তিক প্ৰশাসন গড়ে তোলেন। দক্ষ ও যোগ্যতাসম্পন্ন লোকদের সমন্বয়ে মজলিশ-উস-শুরা গঠন করা হয়। এর দুটি ভাগ ছিল। একটি হচ্ছে মজলিশ-আল-আম, যেখানে রাসুল (স)-এর সাহাবা এবং মদিনার বয়োজ্যেষ্ঠ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে মতামত দিতেন। অন্যদিকে ছিল মজলিশ-আল-খাস যা অল্পসংখ্যক মুজাহিদ নিয়ে গঠিত ছিল। হযরত আলি (রা), তালহা (রা) যুবায়ের (রা) প্রমুখ মজলিশ-আল-খাসের সদস্য ছিলেন । তারা প্রশাসনের দৈনন্দিন কাজের ব্যাপারে মতামত দিতেন। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, ওমর (রা)-এর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা উদ্দীপকে বর্ণিত ব্রিটেনের হাউস অব কমন্সের সদস্যদের মতোই দেশ পরিচালনার বিষয়ে যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন ।