উদ্দীপকে বর্ণিত সংঘর্ষ দ্বারা সিফফিনের যুদ্ধকে ইঙ্গিত করছে। নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো : জনাব শামসুল হক ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে রাজ্যে শান্তি- শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাদেশিক গভর্নরদের বরখাস্ত করেন। ইলিয়াস নামক গভর্নর ব্যতীত সকল গভর্নর তাঁর নির্দেশের প্রতি সম্মান দেখান। গভর্নর ইলিয়াস সাহেব পূর্বের শাসনকর্তার সময়ে যেসব সরকারি সম্পত্তির মালিক হয়েছিলেন নতুন শাসনকর্তা তা রাজকোষে ফিরিয়ে নিলে এক সংঘর্ষ শুরু হয়। হযরত আলী (রা.) ছিলেন ইসলামের চতুর্থ খলিফা। তার শাসনকালে মুসলিম বিশ্ব ছিল ও বিশৃঙ্খলা এবং কলহে জর্জরিত। হযরত ওসমান (রা.) এর হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গৃহযুদ্ধ সংঘটিত হয়। তাই হযরত আলী (রা.) খিলাফতের শাসন ক্ষমতা গ্রহণের পর শান্তি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নেন। তিনি পূর্বের খলিফা তথা হযরত ওসমান (রা.) এর আমলে নিযুক্ত সকল প্রাদেশিক শাসনকর্তাদের পদত্যাগ করতে বলেন। তার এই নির্দেশ সিরিয়ার শাসনকর্তা মুয়াবিয়া ব্যতীত বাকি সবাই পালন করেন। মুয়াবিয়া হযরত ওসমানের শাসনকালে অবৈদভাবে বিপুল অর্থ সম্পত্তির অধিকার হয়েছিলেন। হযরত আলী এসব সম্পত্তি পুনরায় রাজকোষে ফিরিয়ে দিতে বললে তখন হযরত আলী (রা.) ও মুয়াবিয়ার মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। যার ফলে ৬৫৭ খ্রিস্টাব্দে রক্তক্ষয়ী সিফফিনের যুদ্ধ হয়। তাই বলা যায়, নতুন শাসকের পূর্ববর্তী শাসক কর্তৃক নিয়োজিত কর্মকর্তাদের দরখাস্ত, পূর্ববর্তী শাসকের সময়কালে অবৈধভাবে সম্পত্তি অর্জনকারী কর্মকর্তার শাসকের নির্দেশ অমান্য ও অবৈধ সম্পত্তির রাজকোষে ফিরিয়ে দেওয়া নিয়ে সংগঠিত যুদ্ধের দিক থেকে উদ্দীপকে বর্ণিত সংঘর্ষ দ্বারা সিফফিনের যুদ্ধকে ইঙ্গিত করছে।