উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ শাসক হলেন হযরত মুয়াবিয়া (রা.)। তিনি শাসন ক্ষেত্রে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।উদ্দীপকের শাসক তাহমীদের কার্যকলাপের সাথে হযরত মুয়াবিয়ার কর্মকান্ড মিলে যায়। তাহমীদের মতো মুয়াবিয়া পরামর্শসভা ভেঙ্গে দেন, রাষ্ট্রীয় কোষাগারকে ব্যক্তিগত কোষাগারে পরিণত করেন এবং মনোনয়ন প্রথা চালু করেন। খলিফা হযরত মুয়াবিয়া (রা) একজন সুদক্ষ ও প্রতিভাবান শাসক ছিলেন। তিনি খুলাফায়ে রাশেদিনের আমলে। প্রবর্তিত মজলিস-উশ-শূরা বা পরামর্শসভা বাতিল করে প্রচলিত ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থায় কতকগুলো শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তন এনেছিলেন। এছাড়া তিনি ৬৭৬ খ্রিষ্টাব্দে স্বীয় পুত্র ইয়াজিদকে খিলাফতের পরবর্তী উত্তরাধিকারী মনোনীত করে উত্তরাধিকারভিত্তিক রাজতন্ত্রের প্রবর্তন করেন। মুয়াবিয়া ছিলেন উমাইয়া নামে একটি নতুন রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা। শুধু তাই নয়, খলিফা মুয়াবিয়াই সর্বপ্রথম খিলাফতকে সালতানাতে রূপান্তরিত করেন। তিনি নতুন মুসলিম রাষ্ট্রকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে পরিণত করেন। তিনিই প্রথম শাসক যিনি নিজেকে রাজ মর্যাদায় ভূষিত করেন। মুসলিম শাসকদের মধ্যে তিনিই প্রথম রাজকীয় সিংহাসন, খোঁজাদের দিয়ে গঠিত দেহরক্ষী দল, প্রাসাদদ্বারে রক্ষীবাহিনী, জামাতের নামাজের সময় মসজিদে সাধারণ মানুষ থেকেহ দূরে পৃথক তাঁবু এবং নিরাপত্তার জন্য আলাদা কক্ষ এবং রেশম ও মুক্তার মূল্যবান পোশাক-পরিচ্ছদ ইত্যাদির ব্যবহার করেন।সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে রাজা তাহমীদের কার্যক্রমের মধ্যে মুয়াবিয়ার শাসনব্যবস্থার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পরিলক্ষিত হয়।