উদ্দীপকে নির্দেশিত শাসক হলে উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালিক। তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করে আরবীয়করণ নীতি গ্রহণ করেন।উমাইয়া বংশের মারওয়ানি শাখার প্রতিষ্ঠাতা মারওয়ান-এর যোগ্য উত্তরাধিকারী হিসেবে তার পুত্র আব্দুল মালিক ক্ষমতাসীন হয়। তিনি সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণে এনে সুষ্ঠু ও স্থায়ী শাসননীতি প্রণয়ন করেন। আরবি ভাষাকে সরকারি ভাষায় রূপান্তরকরণ তার সর্বপ্রধান কৃতিত্ব। ৬৯৩ খ্রিষ্টাব্দে আব্দুল মালিক সালিক বিন আব্দুর রহমান নামে জনৈক পারসিক মুসলিমের পরামর্শে সরকারি কাজে আরবি ভাষা ব্যবহারের নির্দেশ দেন। এতে আরবি ভাষার ব্যাপক উন্নতি হয়। আরবি ভাষা জানা ব্যক্তিদের বিভিন্ন পদে চাকরি হয়। আরবি বর্ণমালার লিখন ও উচ্চারণ পদ্ধতির উন্নতি সাধন ছিল তার দ্বিতীয়, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার। ইতোপূর্বে আরবি বর্ণমালার ত্রুটি ছিল। হাজ্জাজ বিন ইউসুফের সহযোগিতায় আব্দুল মালিক জবর, জের, পেশ, নোকতা প্রবর্তন করেন। এর ফলে আরবি ভাষা পূর্ণতা পায়। ৬৯৫ খ্রিস্টাব্দে আব্দুল মালিক দামেস্কে জাতীয় টাকশাল স্থাপন করেন। ৬৯৬ খ্রিষ্টাব্দে হাজ্জাজ কুফায় টাকশাল নির্মাণ করে রৌপ্যমুদ্রা চালু করেন। ফলে ব্যবসায় বাণিজ্যের ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়। হযরত মুয়াবিয়ার আমলে ডাক বিভাগের সৃষ্টি হয়। আব্দুল মালিক এ ডাক বিভাগের ব্যাপক সংস্কার করেন। এ ডাক সেবা চালু করতে তিনি পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত ঘোড়া কাজে লাগান। অতএব উদ্দীপকে নির্দেশিত শাসক হলেন আব্দুল মালিক।