উক্ত খলিফা তথা আব্দুল মালিকের আরবীয়করণ নীতির ফলাফল ছিল সুদুরপ্রসারী।
খলিফা আব্দুল মালিক রাষ্ট্রকে জাতীয়করণ এবং সুষ্ঠ শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য পূর্ব থেকে চালুকৃত ফারসি পাহলভি, সিরীয় ও গ্রিকসহ প্রচলিত বিভিন্ন ভাষার উচ্ছেদ সাধন করে আরবিকে রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদা দান করেন। যার ফলে আরব জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং উমাইয়া বংশের নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত হয়। ৬৯৬-৯৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি এ মর্মে একটি আদেশ জারি করেন। সালিহ বিন আব্দুর রহমান নামে জনৈক পারসিক মুসলমানের পরামর্শে তিনি সরকারি কাজে আরবি ভাষা ব্যবহারের নির্দেশ দেন। ফলে সিরিয়া ও ইরাকের প্রদেশসমূহে আরবি ভাষায় সরকারি কাজ ও হিসাবপত্র লিবিপদ্ধ রাখার নিয়ম প্রবর্তিত হয়। পরে মিশর ও পারস্যেও অ্যরবি ভাষা সরকারি ভাষার মর্যাদা লাভকরে। তার শাসননীতি মূলত আরব জাতীয়তাবাদী চেতনা বিকাশের মধ্যে নিহিত ছিল। তিনি শাসনক্ষমতায় বসে দেখলেন যে, আরব মুসলিমরা রাজ্যশাসন করলেও মূলত অনারব জনগোষ্ঠী বিশেষ করে পারসিক ও রোমানরা উমাইয়া খিলাফতের প্রশাসন পরিচালনা করছে। এমতাবস্থায় প্রশাসনে বিজাতীয় প্রভাব হ্রাস এবং আরব প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে খলিফা রাজকীয় দফতরসমূহে কেবল আরবি ভাষাভাষীদের চাকরির জন্য উন্মুক্ত করেন। অবশ্য এর দ্বারা প্রশাসনে যে আরব জাতির প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তা নয়, বহু অনারব দ্রুত আরবি ভাষা রপ্ত করে প্রশাসনে তাদের প্রাধান্য বজায় রাখেন। ঐতিহাসিক পি.কে. হিট্টি বলেন, প্রশাসনকে আরবীয়করণ, প্রথম বিশুদ্ধ আরবি মুদ্রার প্রচলন, ডাক বিভাগের উন্নতি সাধন এবং জেরুজালেমে ইসলামে তৃতীয় পবিত্র স্থাপত্য কুব্বাতুস সাখরা নির্মাণ, যা আরব জাতীয়তাবাদের সাক্ষ্য দেয়।"