'রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নে উদ্দীপকে রাজার তুলনায় আব্দুল মালিকের কৃতিত্ব ছিল অনেক বেশি' মন্তব্যটি যথার্থ। কেননা উদ্দীপকের বাদশা নোমানের শুধু মুদ্রা সংস্কার ও স্থাপত্য শিল্পের কথা বলা হয়েছে।
অপরদিকে আব্দুল মালিক মুদ্রা সংস্কার, শাসন সংস্কার, আরবি ভাষা, লিপির উন্নয়নসহ সকল বিষয়ে অধিক কৃতিত্বের দাবিদার। ৬৮৫ খ্রিস্টাব্দে ক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন প্রদেশের আনুগত্য লাভের জন্য তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। হযরত মুয়াবিয়া (রা.)-এর ইন্তেকালের পরে উমাইয়া প্রশাসনে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এরূপ প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আব্দুল মালিক শক্ত হাতে শাসনদণ্ড গ্রহণ করেন।
আরবি ভাষাকে সরকারি ভাষায় রূপান্তরকরণ তার সর্বপ্রধান কৃতিত্ব। ৬৯৩ খ্রিস্টাব্দে আব্দুল মালিক সালিক বিন আব্দুর রহমান নামে জনৈক পারসিক মুসলিমের পরামর্শে সরকারি কাজে আরবি ভাষা ব্যবহারের নির্দেশ দেন। আরবি বর্ণমালার লিখন ও উচ্চারণ পদ্ধতির উন্নতি সাধন ছিল তার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার। ইতোপূর্বে আরবি বর্ণমালার ত্রুটি ছিল। হাজ্জাজ বিন ইউসুফের সহযোগিতায় আব্দুল মালিক জবর, জের, পেশ, নোকতা প্রবর্তন করেন। এর ফলে আরবি ভাষা পূর্ণতা পায়। হযরত মুয়াবিয়ার আমলে ডাক বিভাগের সৃষ্টি হয়। আব্দুল মালিক এ ডাক বিভাগের ব্যাপক সংস্কার করেন। এ ডাক সেবা চালু করতে তিনি পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত ঘোড়া কাজে লাগান। আব্দুল মালিকের ক্ষমতা গ্রহণের সময় সাম্রাজ্যে যেসব অর্থনৈতিক সংকট ছিল হাজ্জাজ বিন ইউসুফের সহায়তায় আব্দুল মালিক তা শক্তিশালী করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তার এ পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে রাজস্ব বৃদ্ধি পায় এবং খাদ্যশস্যের চাহিদাও নির্ধারিত হয়। আব্দুল মালিক একজন উদার দৃষ্টিভঙ্গির শাসক ছিলেন। তিনি পরধর্মমত সহিষ্ণু ছিলেন। অমুসলিমদের প্রতি তিনি ছিলেন উদার।
অতএব বলা যায়, উদ্দীপকের বাদশাহর চেয়ে আব্দুল মালিকের কৃতিত্ব অনেক বেশি।