রাষ্ট্র পরিচালনায় উদ্দীপকে গৃহীত পদক্ষেপের মতো খলিফা ২য় উমরও কিছু কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন বলেই উমাইয়া খিলাফতের পতন ত্বরান্বিত হয়েছিল- উক্তিটি যথার্থ।
খলিফা ২য় উমরের রাষ্ট্র পরিচালনা উমাইয়া বংশ পতনের জন্য দায়ী ছিলেন কি না এ বিষয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। অনেক ঐতিহাসিকের মতে, খলিফা দ্বিতীয় উমর কর্তৃক অনুসৃত নীতি উমাইয়াদের পতন ত্বরান্বিত করেন। তাদের মতে, দ্বিতীয় উমরের উদার শাসননীতির ফলে আব্বাসীয় বংশ, আলী (রা.) বংশ এবং খারেজিরা শক্তি সঞ্চয়ের সুযোগ লাভ করে। মাওয়ালিরা আরবদের সমান রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আরবদের ওপর প্রাধান্য বিস্তারের সুযোগ লাভ করে। অনেকে মনে করেন, তার ধর্মীয় নীতির ফলে বহু বার্বার সম্প্রদায়, পারসিক ও অমুসলিম সম্প্রদায় ইসলাম ধর্মের সৌন্দর্যে মুগ্ধ না হয়ে আর্থিক সুবিধা-লাভের জন্য ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। এতে সাম্রাজ্যের আর্থিক বুনিয়াদ দুর্বল হয়ে পড়ে। দ্বিতীয় উমর সাম্রাজ্যবাদী নীতি পরিহার করেন। যে কারণে তার সামরিক বাহিনী দুর্বল হয়ে পড়ে। সুতরাং বলা যায়, তিনি উমাইয়া বংশের পতনের ব্যাপারে কিছুটা দায়ী হলেও ইসলামি রাষ্ট্রের পতনের জন্য মোটেই দায়ী ছিলেন না। কারণ তার তিরোধানের পর যদি তার নীতিসমূহ অনুসৃত হতো তাহলে আলী (রা.) ও আব্বাসীয় বংশধররা সহজেই ক্ষুব্ধ হতো না এবং উমাইয়াবিরোধী আন্দোলন জনপ্রিয়তাও পেত না।
পরিশেষে বলা যায়, দ্বিতীয় উমরের রাজত্বনীতি, খারেজি নীতি, মাওয়ালি নীতি এবং ধর্মীয় ও সামরিক নীতি উমাইয়া শাসনের পতনের-বিষয়কে ত্বরান্বিত করে।