খলিফা আব্দুল মালিকের শাসন সংস্কার তথা আরবি ভাষার উন্নয়ন, ডাক বিভাগের সংস্কার, আরবি মুদ্রার প্রচলন, রাজস্ব সংস্কার প্রভৃতি কর্মকাণ্ড উমাইয়া বংশের ভিত মজবুতকরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন।
আব্দুল মালিক ভাষা সংস্কার করার জন্য প্রথমে সরকারি অফিসে আরবি ভাষা প্রবর্তন করেন। তিনি ৬৯৬-৯৭ সালে সরকারি সকল কাজে আরবি ভাষা ব্যবহার করার নির্দেশ দেন। যার ফলে সকল কাগজপত্র আরবি ভাষায় সংরক্ষণ করা হয়। সমগ্র খিলাফতে একই রূপ শাসনব্যবস্থা পরিচালনা এবং ভাষার ভিন্নতার কারণে যেসব অসুবিধা ছিল তা দূরীভূত হয়। আবুল মালিকের সময়ে আরবি লিপির উৎকর্ষ সাধন করা হয়। তিনি হাজ্জাজ-বিন ইউসুফের সহযোগিতায় আরবি হরফে নোকতার প্রচলন করেন। আবুল মালিক মুদ্রাব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কার সাধন করেন এবং সর্বপ্রথম খাঁটি আরবি মুদ্রা প্রচলন করেন। জাতীয় মুদ্রা প্রচলনের জন্য তিনি ৬৯৫ সালে দামেস্কে একটি কেন্দ্রীয় টাকশাল স্থাপন করেন। তার সময়ে দিনার, দিরহাম ও ফালস নামের স্বর্ণ, রৌপ্য ও তাম্রমুদ্রার প্রচলন করা হয়। মুদ্রাগুলোকে জাতীয়করণের জন্য ক্রসের পরিবর্তে আরবি বর্ণমালা লেখা হয়। আবুল মালিক রাজস্বব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কার করেন। তিনি মাওয়ালিদের ওপর খারাজ ও জিজিয়া কর ধার্য করেন। তিনি ডাক বিভাগের সংস্কার করেন এবং ডাকচৌকি নির্মাণ করেন। তাছাড়া তিনি দামেস্কে মহাফেজখানা প্রতিষ্ঠা করে রেজিস্ট্রি বিভাগের সংস্কার করেন। দিওয়ানুল রাসায়েলে সকল চিঠিপত্র সংরক্ষিত থাকত। তিনি বিচার বিভাগের সংস্কার হিসেবে দিওয়ানুল কাফ প্রতিষ্ঠা করেন।
পরিশেষে বলা যায়, আবুল মালিক শাসন সংস্কার, রাজস্ব সংস্কার, ভাষা ও মুদ্রা সংস্কারের মাধ্যমে অমরত্ব লাভ করেন।