ব্রিটিশ মুদ্রাব্যবস্থার সংস্কারের সাথে উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালিকের মুদ্রা সংস্কারের মিল রয়েছে।
উদ্দীপকের ব্রিটিশ সরকার ভারতে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মুদ্রার ক্ষেত্রে প্রচলিত মুদ্রা বাতিল করে নতুন ঔপনিবেশিক মুদ্রাব্যবস্থা চালু করেন। যা খলিফা আব্দুল মালিকের মুদ্রাব্যবস্থার সংস্কারের অনূরূপ। খলিফা আবদুল মালিক সর্বপ্রথম খাঁটি আরবি মুদ্রার প্রচলনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে খাঁটি আরবি মুদ্রা প্রচলন করেন। জাতীয় মুদ্রা প্রচলনের জন্য ৬৯৫ খ্রিষ্টাব্দে আব্দুল মালিক দামেস্কে জাতীয় টাকশাল স্থাপন করেন। এ টাকশালে আরবি অক্ষরযুক্ত নির্দিষ্ট এবং সর্বজন স্বীকৃত একক মুদ্রামানের দিনার (স্বর্ণমুদ্রা), দিরহাম (রৌপ্যমুদ্রা) ও ফালস (তাম্রমুদ্রা) নামে মুদ্রা দেশে চালু করা হয়। ৬৯৬ খ্রিষ্টাব্দে হাজ্জাজ কুফায় টাকশাল নির্মাণ করে রৌপ্যমুদ্রা চালু করেন। মুদ্রা জাল রোধ করার জন্য কঠোর শাস্তির বিধান করা হয়। এর ফলে ব্যবসায় বাণিজ্যের ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়। এ উদ্যোগের পূর্বে সিরিয়া, মিশর, প্যালেস্টাইন এবং আফ্রিকায় গ্রিকদের স্বর্ণমানের মুদ্রা এবং পারস্যে সাসানীয়দের প্রাচীন রৌপ্যমানের মুদ্রার প্রচলন ছিল। প্রাদেশিক গভর্নর (ওয়ালি) স্থানীয় চাহিদার নিরিখে মুদ্রা নির্মাণ করত। একই সাম্রাজ্যে প্রাদেশিক গভর্নরদের হাতে মুদ্রা নির্মাণের ক্ষমতা এবং বিভিন্ন প্রদেশে বিভিন্ন মুদ্রা প্রচলনের ফলে আর্থিক শৃঙ্খলা বিনষ্ট হতো। তাই আব্দুল মালিক মুদ্রা ব্যবস্থার পরিবর্তন করে আধুনিকায়ন, করেন।
অতএব ব্রিটিশ মুদ্রাব্যবস্থার সংস্কারের সাথে উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালিকের মুদ্রা সংস্কারের মিল রয়েছে।