খলিফা উমর বিন আবদুল আজিজের শাসননীতি কিছু ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেললেও সর্বক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।খলিফা উমর বিন আবদুল আজিজের শাসনকালের প্রত্যেকটি দিক বিবেচনা করলে উমাইয়া বংশের পতনের জন্য খলিফা দ্বিতীয় উমর পুরোপুরি দায়ী নন। তিনি মাওয়ালিদের ওপর অন্যায়ভাবে আরোপ করা জিজিয়া ও খারাজ রহিত করেছিলেন। এর ফলে দলে দলে মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে এবং খারাজ ও জিজিয়া প্রদান থেকে অব্যাহতি পায়। এজন্য রাজস্ব আয় কমে যায় এবং অর্থের অভাবে সেনাবাহিনী দুর্বল হয়ে পড়ে। একারণে অনেকে তাকে উমাইয়া বংশের পতনের জন্য দায়ী করে। কিন্তু তা পুরাপুরি সঠিক নয়। কেননা তার উত্তরাধিকারিগণ যদি তার অনুসৃত নীতি অনুসরণ করত, তাহলে মাওয়ালি, হাশেমি ও আলীর সমর্থকগণ কখনো উমাইয়া বিরোধী আন্দোলনে যোগ দিত না। ফলে উমাইয়াদেরও হয়ত পতন হতো না। তিনি উমাইয়া, হাশেমি, আরব-অনারব, হিমারীয়-মুদারীয় দ্বন্দ্ব নিরসন করার চেষ্টা করেন এবং অনেকাংশে সফল হন। উইলিয়াম মুর বলেন, উমরের রাজত্বকালে কোনো চাঞ্চল্যকর ঘটনা না থাকলেও আকর্ষণীয় ঘটনার অভাব ছিল না। রক্তপাত, ষড়যন্ত্র এবং বিশ্বাসঘাতকতার বিভীষিকার মধ্যে তার শাসনকাল উপশমের ভূমিকা পালন করেছে। তার নিরপেক্ষতার জন্য উমাইয়া বংশের ষড়যন্ত্রকারীরা তার মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করলে এর জন্য তার নীতি দায়ী নয়, ষড়যন্ত্রকারীরা দায়ী। খালিফা উমর বিন আব্দুল আজিজকে উমাইয়া বংশ পতনে দায়ী করে যেসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয় সেগুলোর ঐতিহাসিক সত্যতা পাওয়া যায় না। কারণ তার তিরোধানের পর যদি তার নীতি অনুসৃত হতো, তাহলে আলীর সমর্থক ও আব্বাসিরা সহজেই ক্ষুব্ধ হতো না। তাদের আন্দোলনের জন্য দায়ী পরবর্তী দুর্বল শাসকেরা, খলিফা উমর বিন আব্দুল আজিজ নন।অতএব ওমর বিন আব্দুল আজিজের শাসননীতি কিছু ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেললেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।