আকবর সাহেবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ শাসক অর্থাৎ খলিফা আবদুল মালিক হলেন উমাইয়া বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, রাজস্ব প্রশাসনের সংস্কার, ডাক বিভাগের উন্নতি বিধান, নানা বিদ্রোহী জনগোষ্ঠীকে দমনের পাশাপাশি সরকার বাংলা ভাষার উন্নতিতেও নিরবিচ্ছিন্ন কাজ করছে। একইভাবে উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিকও আরবি ভাষার উন্নতির পাশাপাশি রাজস্ব প্রশাসনের সংস্কার, ডাক বিভাগের উন্নতি, এবং বিভিন্ন বিদ্রোহ দমনে যথেষ্ট যোগ্যতা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন ।
খলিফা আবদুল মালিক রাজস্ব সংস্কারের মাধ্যমে রাজ্যে বিরাজমান অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটানোর জন্য কিছু নীতি গ্রহণ করেন। এ নীতিগুলোর মধ্যে ছিল ইসলাম গ্রহণ করলেও মাওয়ালিদের জিজিয়া ও খারাজ দিতে হবে, সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেও সৈন্যরা গ্রামে গিয়ে স্ব-স্ব পেশায় নিযুক্ত হতে হবে। মুসলমানরা জমি ক্রয় করলে আগের মতো কর দিতে হবে এবং অনাবাদি জমি ও জলাভূমির জল নিষ্কাশন করে সেগুলো চাষ করতে হবে। খলিফা আবদুল মালিক ডাক বিভাগের সংস্কারের জন্য পারসিকদের পদ্ধতি অনুযায়ী ডাক চালান প্রথার প্রচলন করেন। তিনি সাম্রাজ্যের বড় রাস্তার পাশে ডাকচৌকি নির্মাণ করেন। তার এ ডাক বিভাগ সরকারি চিঠিপত্র, আদেশ-নিষেধ আদান-প্রদান, সরকারি কর্মচারীদের স্থানান্তর, যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত সৈন্য ও রসদ সরবরাহ এবং গোয়েন্দা বিভাগের কাজ সম্পাদন করত। তিনি সাম্রাজ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায়ও অসামান্য ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও খলিফা আবদুল মালিক কঠোরহস্তে বিদ্রোহীদের দমন করেন। তিনি সিংহাসনের দাবিদার খালিদ বিন ইয়াজিদকে স্বীয় দলভুক্ত এবং আমর বিন যাইদকে কৌশলে রাজপ্রাসাদে আহ্বান করে স্বহস্তে হত্যা করেন। মুসাবকে তিনি যুদ্ধের মাধ্যমে পরাজিত ও নিহত করেন। এরপর তিনি বার্বার নেতা কোমেইলার ও কাহিনার বিদ্রোহ দমন করেন ।
সার্বিক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিক বিভিন্ন সংস্কার সাধন এবং সাম্রাজ্যে বিদ্রোহীদের দমনের ক্ষেত্রে অপরিসীম কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। তাই তাকে উমাইয়া বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয় ।