উদ্দীপকে উল্লেখিত তৈমুর লং-এর সাথে আমার পঠিত উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদের রাজ্যবিস্তার নীতির সাদৃশ্য রয়েছে।
খলিফা আবদুল মালিকের মৃত্যুর পর ৭০৫ খ্রিষ্টাব্দে আল ওয়ালিদ পিতার মনোনয়ন অনুসারে দামেস্কের সিংহাসনে আরোহণ করেন। একজন পরাক্রমশালী সুদক্ষ শাসক হিসেবে তিনি ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তিনি তার রাজত্বকালে কয়েকজন সুযোগ্য সেনানায়কের সহযোগিতায় বিশাল মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। উদ্দীপকেও এ বিষয়ের প্রতিফলন ঘটেছে ।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, তৈমুরীয় সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা তৈমুর লং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজ্যবিজেতাদের অন্যতম ছিলেন। রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণের পর সীমান্ত সুরক্ষা, বৈদেশিক আক্রমণ প্রতিরোধ, ধন সম্পদ সংগ্রহ, স্বীয় সামরিক শক্তির শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন, বিদ্রোহ দমন, বহির্বিশ্বে ইসলাম ধর্ম প্রচার প্রভৃতি কারণে তিনি বহু অঞ্চল অধিকার করেন। তার রাষ্ট্রসীমা পশ্চিম ও মধ্য এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সম্প্রসারিত হয়। একইভাবে উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদও ছিলেন উমাইয়া বংশের শ্রেষ্ঠ বিজেতা। ঐতিহাসিক পি কে. হিট্টি বলেন, “খলিফা ওমর ও ওসমানের আমলে সিরিয়া, ইরাক, পারস্য এবং মিসর বিজয়ের ফলে মুসলিম সাম্রাজ্য বিস্তারের প্রথম পর্বের পরিসমাপ্তি ঘটে। এরপর আবদুল মালিক এবং আল ওয়ালিদের অধীনে আবার মুসলিম সাম্রাজ্য বিজয়ের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়।' খলিফা আল ওয়ালিদ তার সুযোগ্য সেনাপতিদের সহায়তায় মুসলিম সাম্রাজ্য পশ্চিমে স্পেন থেকে পূর্বে ভারতবর্ষ এবং উত্তরে মধ্য এশিয়ার ফারগানা থেকে দক্ষিণে ইয়েমেন 'পর্যন্ত বিস্তৃত করেন। সুতরাং বলা যায়, তৈমুর লং-এর সাথে খলিফা আল ওয়ালিদের রাজ্যবিস্তার নীতির সাদৃশ্য রয়েছে।