কারবালা যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন দ্বন্দ্ব-সংঘাতে এটির প্রভাব প্রকাশ পাওয়ায় উদ্দীপকের শেষোক্ত বক্তব্যের সাথে আমি একমত।
ইসলামের ইতিহাসে কারবালার যুদ্ধ একটি মর্মান্তিক ঘটনা। ইসলামের পরবর্তী ইতিহাসে এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। এ যুদ্ধের কারণে পরবর্তীতে উমাইয়া-হাশেমি দ্বন্দ্ব, শিয়া মতবাদ, হারবার যুদ্ধ, মক্কা অবরোধ, পারস্য জাতীয়তাবোধসহ বিভিন্ন দ্বন্দ্ব ও সংঘাত সৃষ্টি হয় যা উদ্দীপকেও লক্ষণীয় ।
উদ্দীপকের শেষোক্ত বর্ণনায় বলা হয়েছে, এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি পরবর্তীতে বিভিন্ন দ্বন্দ্ব-সংঘাতের জন্ম দিয়েছিল। কারবালা যুদ্ধের প্রভাব সম্পর্কিত এ মন্তব্যটি যথার্থ। কারবালা যুদ্ধের ফলে হাশেমি ও উমাইয়া বিরোধ, তীব্র আকার ধারণ করে। কারবালার নির্মম হত্যাকাণ্ড শিয়া সম্প্রদায় সৃষ্টিতে মূখ্য ভূমিকা পালন করে। আর শিয়ারা উমাইয়াবিরোধী মতবাদ গঠন করে বলে মুসলমান-মুসলমান সংঘাত সৃষ্টি হয়। এ যুদ্ধের ফলে ইয়াজিদ হারবার আক্রমণ করে মদিনাবাসীকে পরাজিত করে এবং পবিত্র ভূমিকে নগণ্যভাবে অপমান করে। তাছাড়া ইয়াজিদ মক্কা অবরোধ করে সেখানে কাবাগৃহের বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস সাধন করে। এছাড়াও কারবালা যুদ্ধ পারস্য জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটায়, যা পরবর্তীকালে উমাইয়াদের ধ্বংস সাধনে আব্বাসি বংশধরদের সহায়তা করে।
পরিশেষে বলা যায়, কারবালার ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়স্পর্শী ঘটনা। আর এ ঘটনা পরবর্তীকালে সংঘটিত বিভিন্ন দ্বন্দ্ব- সংঘাত সৃষ্টিতে মূখ্য কারণ হিসেবে ভূমিকা পালন করে ।