উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে মুয়াবিয়া অসামান্য কৃতিত্বের দাবিদার।
খুলাফায়ে রাশেদিনের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে মুয়াবিয়া ইসলামের ইতিহাসে সর্বপ্রথম বংশানুক্রমিক রাজবংশের সূচনা করেন। মুসলিম রাষ্ট্রকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার অবদান অনস্বীকার্য । উদ্দীপকেও এই শাসকের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে ।
মুয়াবিয়া একজন সুদক্ষ ও প্রতিভাবান শাসক ছিলেন। সিফফিনের যুদ্ধে কূটনৈতিক দক্ষতার দ্বারা হযরত আলী (রা)-কে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করে মুসলিম খিলাফতে আরোহণ করেন । পুত্র ইয়াজিদকে পরবর্তী খলিফা মনোনীত করে নির্বাচনভিত্তিক খিলাফতকে উত্তরাধিকারভিত্তিক রাজবংশে রূপান্তরিত করেন। সামরিক সংগঠক হিসেবে তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। তৃতীয় খলিফার সময়ে মুয়াবিয়া ৪০০ জাহাজ নিয়ে সর্বপ্রথম মুসলিম নৌবাহিনী প্রতিষ্ঠা করেন। খুলাফায়ে রাশেদিনের সময়ে মজলিশে শুরা বাতিল করে শাসনব্যবস্থার ক্ষেত্রে তিনি কতকগুলো পরিবর্তন আনেন। কেন্দ্র থেকে প্রাদেশিক ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ করেন। বাইজান্টাইনদের পূর্ব প্রবর্তিত শাসন কাঠামোর ওপর একটি স্থায়ী ও সুসংহত রাষ্ট্র গড়ে তোলেন। 'দিওয়ান-উল-খাতাম ও 'দিওয়ান-উল- বারিদ' নামে দুইটি বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। এ ছাড়াও জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও তার কৃতিত্ব অপরিসীম।
উপরের আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, মুয়াবিয়া শাসনতান্ত্রিক সংস্কার, সামরিক সংগঠন, প্রশাসনিক সংগঠনসহ সকল ক্ষেত্রে অবদানের মাধ্যমে সুদৃঢ় রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করে কৃতিত্বের পরিচয় দেন।