তৈমুর লঙ-এর কর্মকাণ্ডের সাথে উমাইয়া খলিফা আল-ওয়ালিদের কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, তৈমুর লঙ একজন ভাগ্যাহত ভবঘুরে থেকে মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ বিজেতা হিসেবে আত্মবিকাশ করেন। তিনি মধ্য এশিয়া-পারস্য থেকে কৃষ্ণসাগরের তীর পর্যন্ত জয় করে বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। তিনি সমকালীন বিশ্বের নয়টি রাজ্যের ২৭জন নৃপতিকে পরাজিত করেছিলেন। যা আল-ওয়ালিদের রাজ্য বিজয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ইসলামের ইতিহাসে বিজেতা হিসেবে খলিফা আল ওয়ালিদ বিশিষ্ট স্থানের অধিকারী। আল ওয়ালিদ তার পিতার মতো সুদক্ষ ও নিপুণ বীরযোদ্ধা ছিলেন না। তবে সৌভাগ্যক্রমে তিনি, হাজ্জাজ বিন ইউসুফ, কুতায়বা বিন মুসলিম, মুসা বিন নুসায়ের ও তারিক বিন জিয়াদের মতো কয়েকজন সুদক্ষ সেনাপতির সহযোগিতা লাভ করেন। দশ বছরের রাজত্বকালে কয়েকজন সুযোগ্য সেনানায়কের সহযোগিতায় খলিফা প্রথম ওয়ালিদ মুসলিম সাম্রাজ্য পশ্চিমে স্পেন হতে পূর্বে ভারতবর্ষ এবং উত্তরে মধ্য এশিয়ার ফারগানা হতে দক্ষিণে ইয়েমেন পর্যন্ত বিস্তৃত করেন। ৭০৫ খ্রিষ্টাব্দে সেনাপতি কোতায়বা মধ্য এশিয়ার বোখারা, সমরখন্দ দখল করেন। ৭১৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি কাশগড় জয় করে সমগ্র মধ্য এশিয়া অধিকার করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এদিকে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের আদেশে সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিম ৭১২ খ্রিস্টাব্দে সিন্ধু জয় করেন। অন্যদিকে, সেনাপতি মুসার মাধ্যমে নৌপথে আক্রমণ চালিয়ে মেজর্কা, মিনকা, ইডিকা প্রভৃতি দ্বীপ রোমানদের নিকট হতে জয় করে মুসলিম শাসনভুক্ত করেন। খলিফা আল ওয়ালিদের সেনাপতি মুসা তার সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদ ৭১২ খ্রিস্টাব্দে স্পেনের রাজা রডারিককে পরাজিত ও নিহত করে স্পেন দখল করেন। এভাবে আল ওয়ালিদের সাম্রাজ্য একদিকে আটলান্টিক হতে পিরেনিজ এবং ভারতের সিন্ধু হতে আরম্ভ করে চীনের সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে।অতএব, উদ্দীপকের তৈমুর লঙের কর্মকাণ্ডের সাথে খলিফা আল-ওয়ালিদের কর্মকান্ডের মিল রয়েছে।