যুগোপযোগী শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করাই উক্ত খলিফা অর্থাৎ খলিফা আবদুল মালিকের শ্রেষ্ঠত্ব লাভের অন্যতম কারণ— উক্তিটি যথার্থ ।
আবদুল মালিকের শাসন সংস্কারের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল রাষ্ট্রকে আরবীয়করণ। বিজাতীয় প্রভাব থেকে সাম্রাজ্যকে মুক্ত করা এবং সাম্রাজ্যে -একই ধরনের শাসন ব্যবস্থা প্রণয়ন করার জন্য তিনি আরবিকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা প্রদান করেন। তৎকালীন প্রচলিত মুদ্রার পরিবর্তে পর্যায়ক্রমে আদ-দিনার, আন-নিসফু, আস-সুলস, দিরহাম এবং ফালুস বা তাম্রমুদ্রার প্রবর্তন করেন। এসব মুদ্রায় কালিমা, তাসমিয়া, কুরআনের আয়াত ও মুদ্রাঙ্কনের তারিখ উৎকীর্ণ করার নির্দেশ দেন। এছাড়া জাতীয় টাকশালে বিশেষ পদ্ধতিসহ ত্রুটিমুক্ত মুদ্রাঙ্কন ব্যবস্থা চালু হওয়ায় মুদ্ৰা জাল করার প্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পায়।
উদ্দীপকের সুলতান ইলতুৎমিশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শাসন সংস্কারের দৃষ্টান্ত লক্ষণীয়। একইভাবে খলিফা আবদুল মালিকও তার শাসনামলে বহু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার সাধন করেন। তার মুদ্রা সংস্কারের ফলে ইসলামি সাম্রাজ্যে পূর্ণ সার্বভৌমত্ব অর্জিত হয়। এছাড়া তিনি আরবি বর্ণমালার লিখন, পঠন ও উচ্চারণ পদ্ধতির উন্নতি বিধান করেন । ফলে শতাব্দীকাল পর হলেও আরবি ভাষা আন্তর্জাতিক ভাষার মর্যাদা লাভ করে। ডাক ও গোয়েন্দা বিভাগের উন্নতিকল্পে তিনি যোগাযোগকারী সড়কের স্থানে স্থানে বদলি ঘোড়ার ব্যবস্থা করেন। কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য তিনি ধর্মান্তরিত মুসলিমদের শহর থেকে গ্রামে ফিরতে বাধ্য করেন এবং রাজ্যের আয় বাড়াতে তাদের ওপর খাজনা ও জিজিয়া কর পুনঃপ্রবর্তন করেন। এভাবে আবদুল মালিক তার শাসন ব্যবস্থায় সংস্কার সাধন করেন।
উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, আবদুল মালিক ও সুলতান ইলতুৎমিশ নিজ নিজ সাম্রাজ্যে প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে সাম্রাজ্যের উন্নয়ন বিধান করে যথেষ্ট 'মৌলিক প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন। আর এটিই আবদুল মালিকের শ্রেষ্ঠত্ব লাভের অন্যতম কারণ ।