উদ্দীপকে উল্লেখিত বাদশাহ নাসিরউদ্দিনের সাথে উমাইয়া খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজের মিল রয়েছে।
উমাইয়া খলিফাদের রাজত্বকালে দেশজুড়ে ক্ষমতা নিয়ে সংঘর্ষ, বিশ্বাসঘাতকতা, ষড়যন্ত্র ও নিষ্ঠুরতা চলছিল। তবে দ্বিতীয় ওমর হিসেবে পরিচিত খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজ ছিলেন এ যুগের ব্যতিক্রমধর্মী একজন মহান শাসক। উদ্দীপকের বাদশা নাসিরউদ্দিনের মধ্যে তারই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও কর্মের প্রতিচ্ছবি দেখা যায় ৷
উদ্দীপকের বাদশা নাসিরউদ্দিন চারিত্রিক দিক দিয়ে ছিলেন- সরল, অনাড়ম্বর, ধর্মানুরাগী ও কর্তব্যপরায়ণ। এ ধরনের বৈশিষ্ট্য খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। তিনি ছিলেন একজন অনাড়ম্বর, ধর্মানুরাগী, কর্তব্যপরায়ণ ও প্রজাবৎসল খলিফা। খুলাফায়ে রাশেদিনের আদর্শ ও ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী ছিলেন তিনি। খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজ অত্যন্ত সহজ-সরল সাধারণ জীবনযাপন করতেন। তিনি প্রথম ওমরের মতো তালিযুক্ত কাপড় পরিধান করতেন। বিশাল সাম্রাজ্যের খলিফা হয়েও তিনি নিজের ও পরিবারের জীবিকা নির্বাহের জন্য মাত্র দুই দিরহাম অর্থ বায়তুল মাল থেকে গ্রহণ করতেন । তিনি বিশ্বাস করতেন, বায়তুল মাল প্রজাদের সম্পদ। খলিফা শুধু এর রক্ষক। ভোগবিলাসী, আড়ম্বরপ্রিয়, ক্ষমতালোভী, মদ্যপায়ী উমাইয়া খলিফাদের মধ্যে তিনি ছিলেন বিশাল ব্যতিক্রম। সততা, নিরপেক্ষতা, সরলতা ও পবিত্রতার মূর্ত প্রতীক। খলিফা দ্বিতীয় ওমর কুরআন ও হাদিসের বিধান অনুসারে জীবনযাপন ও শাসনকাজ পরিচালনা করতেন ধর্মের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা তার চরিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্য ছিল । তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধর্মভীরু। খিলাফতের ইতিহাসের মধ্যে বিরল ধর্মভীরুতা ও চারিত্রিক নিষ্কলুষতার জন্য তাকে 'উমাইয়া সাধু' (Ummaya Saint ) এবং 'পঞ্চম ধর্মপ্রাণ খলিফা' বলা হয়। সুতরাং বলা যায়, বাদশাহ নাসিরউদ্দিনের সাথে উমাইয়া খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অনেক মিল রয়েছে।