উদ্দীপকের উক্ত খলিফা ছিলেন উমাইয়া খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজ, তার শাসননীতি ছিল অনুসরণীয় ।
উমাইয়া খলিফাদের রাজত্বকালে দেশজুড়ে ক্ষমতা নিয়ে সংঘর্ষ, বিশ্বাসঘাতকতা, ষড়যন্ত্র ও নিষ্ঠুরতায় নিমজ্জিত ছিল। তবে এসব অপকর্ম সৃষ্টিকারী খলিফাদের থেকে দ্বিতীয় ওমর হিসেবে পরিচিত খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজ ছিলেন ব্যতিক্রমধর্মী একজন শ্রেষ্ঠ 'ও মহান শাসক। তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও কর্মের প্রতিচ্ছবি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে জনাব আলী আজমের চরিত্রের মধ্যে ।
জনাব আলী আজম একজন দয়ালু, সদাশয় ও প্রজাবৎসল খলিফা। চারিত্রিক দিক দিয়ে তিনি ছিলেন সরল, অনাড়ম্বর, ধর্মানুরাগী ও কর্তব্যপরায়ণ। তিনি খুলাফায়ে রাশেদিনের আদর্শ ও ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী ছিলেন কর ব্যবস্থার সংস্কার করে তিনি শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি সাধন করেন। এছাড়া তিনি ভিন্ন মতাবলম্বীদের শাসনকার্যে নিয়োগ করে এক অপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন । এ ধরনের বৈশিষ্ট্য খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। তিনি ছিলেন অনাড়ম্বর, ধর্মানুরাগী, কর্তব্যপরায়ণ ও প্রজাবৎসল খলিফা। তিনি খুলাফায়ে রাশেদিনের আদর্শ ও ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী ছিলেন। রাজস্বব্যবস্থা সংস্কারের ক্ষেত্রে তিনি মাওয়ালিদের (অমুসলিম ক্রীতদাস, যারা পরবর্তী সময়ে ইসলাম গ্রহণ করেছে) জিজিয়া কর (অমুসলিমদের ওপর ধার্যকৃত কর) থেকে রেহাই দেন। প্রশাসনিক কাজের ক্ষেত্রে তিনি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে যোগ্য লোকদের নিয়োগ দেন। সুতরাং বলা যায়, ওমর বিন আবদুল আজিজ হাশেমীয়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শন, খারেজিদের প্রতি সহানুভূতিশীল, মাওয়ালিদের প্রথম শ্রেণির মর্যাদা প্রদান করে আদর্শ ও অনুকরণযোগ্য প্রশাসনিক সংস্কার সাধন করেন ।