উদ্দীপকে খলিফা আবদুল মালিকের প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ভাষা সংস্কারের প্রতিফলন ঘটেছে।
উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিক সিংহাসনে আরোহণ করে শাসনব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করার জন্য বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তার সংস্কারগুলোর অন্যতম ছিল ভাষা সংস্কার। তিনি ফারসি, সিরীয় প্রভৃতি ভাষার পরিবর্তে আরবিকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। উদ্দীপকের ঘটনায়ও এ বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ব্রিটিশরা ভারতবর্ষের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে মুঘলদের ব্যবহৃত ফারসি ভাষার পরিবর্তে ইংরেজি ভাষা চালু করে। এর ধারাবাহিকতায় তারা ভারতে ইংরেজি শিক্ষার স্কুল প্রতিষ্ঠা করে এবং যাবতীয় সরকারি কাজকর্মে ইংরেজির প্রচলন করে। ঠিক একইভাবে খলিফা আবদুল মালিক রাষ্ট্রকে আরব জাতীয় সংহতি বৃদ্ধি সুষ্ঠু শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য সালেহ বিন আবদুর রহমান নামে জনৈক বিশিষ্ট পারসিক মুসলমানের পরামর্শে সরকারি কাজে আরবি ভাষা ব্যবহারের নির্দেশ দেন। ফলে সিরিয়া ও ইরাকের প্রদেশসমূহে আরবি ভাষায় হিসাবপত্রসহ সব সরকারি কাজ করার নিয়ম চালু হয়। পরে মিসর ও পারস্যেও আরবি ভাষা সরকারি ভাষার মর্যাদা লাভ করে। এতে প্রশাসনিক কাজকর্মে আরব মুসলমানদের প্রতিভা বিকাশের পথ সুগম হয় এবং আরবি ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে আবদুল মালিকের এ সংস্কারেরই প্রতিফলন ঘটেছে।