উক্ত খলিফা অর্থাৎ ওমর বিন আবদুল আজিজের শাসন নীতি ছিল জনকল্যাণমুখী — মন্তব্যটি যথার্থ ।
খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজ তার আগের ও পরের সব উমাইয়া শাসক থেকে চারিত্রিক গুণাবলি, ধর্মপালন ও শাসনকার্যে একেবারেই ভিন্ন ছিলেন । তিনি ধার্মিক, দয়ালু, সুবিচারক, উদার, সরল ও শান্তিপ্রিয় মানুষ ছিলেন। তিনি ইসলাম ধর্ম প্রচারে বিশেষ মনোযোগী হন এবং প্রজাকল্যাণে জনসাধারণের ওপর থেকে অতিরিক্ত কর রহিত করে একটি জনকল্যাণকামী শাসন ব্যবস্থা চালু করেন ।
৭১৫ খ্রিষ্টাব্দে ওমর বিন আবদুল আজিজ ক্ষমতায় আরোহণ করে খুলাফায়ে রাশেদিনের নীতি অনুসারে একটি জনকল্যাণমুখী শাসন ব্যবস্থা চালু করেন। তিনি তার পূর্ববর্তী খলিফাদের কলুষিত নীতি ত্যাগ করে দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়নিষ্ঠ, গোত্র ও স্বজনপ্রীতিমুক্ত একটি সর্বজনীন প্রশাসন প্রতিষ্ঠার নীতি গ্রহণ করেন। তিনি মাওয়ালিদের (অনারব মুসলিম) ওপর থেকে জিজিয়া ও খারাজ প্রত্যাহার করেন। এছাড়া ইসলামের প্রসারকল্পে ঘোষণা দেন যে, যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করবে তাকে খারাজ ও জিজিয়া থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। ফলে ইসলামের ব্যাপক প্রসার ঘটে। ইসলামের সাম্য, মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ব-এ নীতিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি মাওয়ালিদের জিজিয়া ও খারাজ থেকে মুক্ত করেন এবং মুসলমানদেরকে যাকাত ও উশর প্রদানের নির্দেশ দেন। খলিফা দ্বিতীয় ওমরের রাজ্য শাসনের মূলমন্ত্র ছিল মানবতার সেবা ও প্রজাপালন। তিনি প্রাদেশিক গভর্নরদের কল্যাণকামী শাসন ব্যবস্থার রূপরেখা প্রণয়নের নির্দেশ দেন। প্রজাপীড়ন পরিহার করে জনসাধারণের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে তিনি নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন। উমাইয়াদের চরম শত্রু হাশেমি, খারেজি সবার প্রতি তিনি উদার নীতি গ্রহণ করেন। এভাবে ওমর বিন আবদুল আজিজ উদারনৈতিক জনকল্যাণকামী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, ওমর বিন আবদুল আজিজ মুসলমান, অমুসলমান, আরব-অনারব, হিমারীয়, মুদারীয় সবার সমানাধিকারের ভিত্তিকে একটি জনকল্যাণকামী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ।