আব্বাসি আন্দোলনের মাধ্যমে উক্ত বংশের বা উমাইয়া বংশের পতন হয়। বিভিন্ন কারণে আব্বাসি আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল ।
ইমাম হাসানের প্রতি মুয়াবিয়ার বিশ্বাসঘাতকতা, কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা ইত্যাদি আলির সমর্থকদের ক্ষুব্ধ করে। তাছাড়া আরব ও অনারব মুসলমানদের মধ্যে বৈষম্যমূলক নীতি, বিজিত জাতির সদস্যদের, বিশেষ করে পারসিকদের সরকারি চাকরির বড় বড় পদ ও সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে অপসারিত করা, হিমারীয় ও মুদারীয় দ্বন্দ্ব এবং সর্বোপরি উমাইয়া খলিফাদের রাষ্ট্রের প্রতি অবহেলা প্রভৃতি কারণে আব্বাসি আন্দোলন গড়ে ওঠে ।
আন্দোলনকারীরা মুহাম্মদ বিন আলির মাধ্যমে খিলাফতে হাশেমি বংশের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য 'আব্বাসি মতবাদ' নামে একটি মতবাদ প্রচার করতে থাকেন। এ মতবাদ অনুযায়ী খিলাফতের দায়িত্ব আলি বংশীয়দের হাতে প্রদান করা উচিত এবং হযরত আলির ঔরসজাত পুত্র আল হানিফার ওপর ইমামতির দায়িত্ব অর্পিত হওয়া উচিত। কারণ, ইমাম হুসাইনের নাবালক পুত্র জয়নুল আবেদিন ইমামতি করার অনুপযুক্ত। এরপর আব্বাসিরা সর্বদলীয় প্রচারণা শুরু করে কুরাইশদের হাশেমি গোত্রের পক্ষে খিলাফতের দাবি করতে থাকে। এরপর ইবনে আব্বাসের পুত্র আলির মৃত্যুর পর মুহাম্মদ বিন আলি নেতৃত্ব গ্রহণ করে আব্বাসিদের প্রচারণা এগিয়ে নিতে থাকেন এবং এ লক্ষ্যে তিনি হযরত ফাতেমার বংশধরদের নিজ দলে আনতে সক্ষম হন। কিন্তু তার উদ্দেশ্য সফল হওয়ার আগেই তিনি ৭৪৪ খ্রিষ্টাব্দে মারা যান। মৃত্যুর আগে মুহাম্মদ বিন আলি ইব্রাহিম, আবুল আব্বাস এবং আবু জাফর নামে তিন পুত্রকে পর্যায়ক্রমে উত্তরাধিকারী করে যান। এ সময় আবু মুসলিম নামে একজন দাঈ (প্রচারক) খোরাসানে আব্বাসি আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করে ব্যাপক প্রচার চালান। আবু মুসলিম রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সেনাপতি কাহতাবার মাধ্যমে খোরাসান ও ফারগনা দখল করতে সক্ষম হন । ইতোমধ্যে ইব্রাহিম উমাইয়াবিরোধী কাজের জন্য বন্দি হন এবং পরে তাকে হত্যা করা হয়। কিন্তু আবু মুসলিম আন্দোলন চালিয়ে যান এবং সেনাপতি কাহতাবা ও খালিদ বিন বার্মাককে ইরাকে প্রেরণ করেন। এখানে তুমুল যুদ্ধের পর সেনাপতি কাহতাবা মৃত্যুবরণ করেন। কাহতাবার পুত্র হাসান বিন কাহতাবা ইরাকের শাসনকর্তাকে পরাজিত করে কুফা অধিকার করেন। এরপর আব্বাসি বাহিনী নিহাওয়ান্দ ও মেসোপটেমিয়া জয় করে ইব্রাহিমের মনোনয়ন অনুসারে ৭৪৯ খ্রিষ্টাব্দে কুফার এক মসজিদে আবুল আব্বাসকে খলিফা বলে ঘোষণা করা হয়। আবুল আব্বাস ভ্রাতৃহত্যা এবং উমাইয়া নৃশংসতার প্রতিশোধ নেবেন বলে শপথ গ্রহণ করেন এবং 'আস- সাফফাহ' (রক্তপিপাসু) উপাধি গ্রহণ করেন। এ সময়ই আবু মুসলিমের সেনাপতি আবু আয়ুন মারওয়ানের পুত্রকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন। এরপর জাবের যুদ্ধের মাধ্যমে উমাইয়াদের চূড়ান্ত পরাজয় হয়।
উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, আব্বাসি আন্দোলনের মাধ্যমে উমাইয়া বংশের পতন হয় ।