উক্ত শাসক তথা খলিফা আবদুল মালিক ছিলেন উমাইয়া বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা— পাঠ্যবইয়ের আলোকে বক্তব্যটি যৌক্তিক বলে আমি মনে করি।
বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হতে হলে শাসকের যেসব গুণাবলি থাকা বা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা দরকার খলিফা আবদুল মালিকের মধ্যে তা সর্বতোভাবে বিদ্যমান। সিংহাসনে আরোহণ করে তিনি শাসনব্যবস্থাকে সুদৃঢ় ভিত্তি দান করেন। তাই মুয়াবিয়া উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা হলেও খলিফা আবদুল মালিককে উমাইয়া বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয় ।
খলিফা আবদুল মালিক সাম্রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে অভ্যন্তরীণ গোলযোগ, বিদ্রোহ দমন করেন। সাম্রাজ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তিনি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেন । অধ্যাপক পি. কে. হিট্টি বলেন, আবদুল মালিকের রাজত্বকাল উমাইয়া বংশের গৌরবময় যুগ। শাসন ব্যবস্থাকে আরবীয়করণ আবদুল মালিকের সর্বপ্রধান কৃতিত্ব। তিনি আরবিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দান করেন। আবদুল মালিক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ আরবীয়করণ নীতির প্রবর্তন করে আরবদের মৌলিক প্রতিভা বিকাশের পথ উন্মুক্ত করেন। সংস্কারমূলক কার্যাবলি তার প্রতিভার পরিচয় তুলে ধরে এবং দেশে সমৃদ্ধি আনয়ন করে। একজন উদ্যমশীল, প্রতিভাবান ও দূরদর্শী রাজনীতিবিদ হিসেবে খলিফা আবদুল মালিককে বিশেষায়িত করলে অত্যুক্তি হবে না। তাছাড়া তিনি যে শিল্পীমনের অধিকারী ছিলেন তার প্রমাণ মেলে 'কুব্বাতুস সাখরা' নির্মাণের মধ্য দিয়ে।
পরিশেষে বলা যায় যে, আবদুল মালিক তার কার্যাবলির দ্বারা উমাইয়া বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে খ্যাতিলাভ করেন। কারণ উমাইয়া বংশের পরবর্তী শাসকগণ তার দেখানো পদ্ধতিতেই সাম্রাজ্য পরিচালনা করেছেন।