উদ্দীপকের ঘটনা আমার পঠিত কারবালার ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়।
কারবালার বিয়োগান্ত ঘটনা শুধু ইসলামের ইতিহাসে নয় বরং গোটা বিশ্বের ইতিহাসে একটি মর্মান্তিক ও দুঃখজনক ঘটনা । ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১০ মহররম উমাইয়া খলিফা প্রথম ইয়াজিদের শাসনামলে কুফার শাসনকর্তা ওবায়দুল্লাহ কারবালার প্রান্তরে ইমাম হুসাইনকে নির্মমভাবে হত্যা করে। কারবালার এ মর্মান্তিক ঘটনার ফলে ইসলামে শিয়া সম্প্রদায়ের উদ্ভব হয় এবং তারা প্রতি বছর এ দিনটিকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্মরণ করে। উদ্দীপকে এ ঘটনারই একটি দৃশ্যপট বর্ণিত হয়েছে ।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ঢাকার ঐতিহ্যবাহী হোসনি দালান থেকে প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট দিনে তাজিয়া মিছিল বের হয়। এ মিছিলে কেউ শরীর থেকে রক্ত ঝরায়, কেউ নিজের শরীরে রক্তিম রং মিশিয়ে প্রকাশ করে শোকের বন্দনা। এছাড়া এই মিছিলে নানা প্রকাশ ভঙ্গির মাধ্যমে এক অতীত শোকাবহ ঘটনাকে স্মরণ করা হয়, যেটি হলো কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা ৷ ৬৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১০ মহররম ইরাকের কারবালার প্রান্তরে ইমাম হুসাইন এবং প্রথম ইয়াজিদের বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। এটি ছিল একটি অসম যুদ্ধ। এ যুদ্ধে ইমাম হুসাইনের ভ্রাতুষ্পুত্র কাশিম প্রথমে শাহাদাতবরণ করেন । হুসাইন পিপাসার্ত শিশুপুত্র আসগরকে নিয়ে ফোরাত নদীতে পানির জন্য অগ্রসর হলে আসগর তার কোলেই তীরবিদ্ধ হন। ফলে হুসাইন শেষবারের মতো শত্রুদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। ইমাম হুসাইনের বিক্রমে ইয়াজিদ বাহিনী ভীত হয়ে পালাতে থাকে। কিন্তু অকস্মাৎ একটি তীর তার বক্ষে বিদীর্ণ হলে তিনি ধরাশায়ী হন। নিষ্ঠুর সীমার অর্ধমৃত হুসাইনের ঘাড়ের ওপর তরবারি চালিয়ে তার মস্তকটি বিচ্ছিন্ন করে। ঐতিহাসিক গিবন বলেন, “হুসাইনের মৃত্যুর বিয়োগান্ত দৃশ্য নিথর পাঠকের মধ্যে সহানুভূতির উদ্রেক করবে।' বেদনাদায়ক ও মর্মান্তিক এ হত্যাকাণ্ডের ফলে সমগ্র মুসলিম বিশ্ব শোকের ছায়ায় বিহ্বল হয়ে যায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে কারবালার বিয়োগান্ত ঘটনাই তুলে ধরা হয়েছে।