উক্ত খলিফা অর্থাৎ খলিফা আবদুল আজিজের ধর্মপরায়ণতা ও শাসনক্ষেত্রে খুলাফায়ে রাশেদিনের নীতি অবলম্বনের কারণে তাকে ধার্মিক খলিফা বা দ্বিতীয় ওমর বলা হয়।
খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজ খুলাফায়ে রাশেদিনের আদর্শ ও ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী ছিলেন । খুলাফায়ে রাশেদিনের মতোই আবদুল আজিজের রাজ্যশাসনের মূলমন্ত্র ছিল মানবতার সেবা ও প্রজাপালন । তিনি প্রাদেশিক গভর্নরদের কল্যাণকামী শাসন-ব্যবস্থার রূপরেখা অনুসরণের নির্দেশ দেন। তিনি হাশেমি, খারেজি, মাওয়ালি, সকলের প্রতি উদার নীতি গ্রহণ করেন । উমাইয়া খলিফাদের মধ্যে খারেজিরা একমাত্র তারই আনুগত্য স্বীকার করেন। খলিফা প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে মাওয়ালিদের নিয়োগ দেন। উপরন্তু তাদের ওপর ধার্যকৃত জিজিয়াকরসহ অতিরিক্ত কর রহিত করেন । উমাইয়ারা আফ্রিকার বার্বারদের কাছ থেকে যে নিষ্ঠুর শিশু কর আদায় করতো, সে কর ও তিনি রহিত করেন। খলিফা আবদুল আজিজ একজন গোঁড়া মুসলমান ধার্মিক ছিলেন। তিনি মনে করতেন প্রথমে তিনি মুসলমান এরপর আল্লাহর প্রতিনিধি বা খলিফা। ইসলাম প্রচারকল্পে তিনি ঘোষণা করেন, যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করবে তাকে খারাজ ও জিজিয়া থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। এছাড়া তাকে পেনশন দেওয়া হবে। ফলে শুধু খোরাসান, পারস্যই নয় বরং বাবার সম্প্রদায় পর্যন্ত বহুলোক ইসলাম গ্রহণে উদ্বুদ্ধ হয়। খলিফা অমুসলিম প্রজাদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেন নি। সমাজের রাজস্ব ঘাটতি পূরণের জন্য খলিফা তার রাজস্ব কর্মচারীদের যথাযথভাবে জিজিয়া আদায়ের নির্দেশ দেন। বিত্তবান নাগরিকদের তাদের অতিরিক্ত সম্পদের যাকাত আদায়ের নির্দেশ দেন ।
জনহিতকর কাজেও খলিফা ওমর বিন আবদুল আজিজ বিশেষ আগ্রহী ছিলেন। তিনি কৃষিব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করেন। সুষম রাজস্ব নির্ধারণের লক্ষ্যে তিনি ভূমি জরিপের ব্যবস্থা করেন। প্রজাকল্যাণার্থে আদমশুমারির ব্যবস্থা করা হয়। খলিফা রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও সংস্কার করে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজতর করেন। দ্বিতীয় ওমর অল্প বয়সে পবিত্র কুরআন শরিফ মুখস্থ করে হাফিজ-ই-কুরআন হয়েছিলেন । ধর্মশাস্ত্রে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেন বলে তাকে তৎকালীন আরবের শ্রেষ্ঠ আলেমদের অন্যতম বলে ধরা হতো। তিনি ইসলামি শরিয়তের প্রতিটি অনুশাসন নিখুঁতভাবে পালন, কুরআন-হাদিস চর্চা এবং ইসলাম প্রচারকে তার মৌলিক কর্তব্য বলে মনে করতেন । তিনি আলেম-উলেমাদের যথেষ্ট সম্মান করতেন । তাদের সাহায্যে তিনি সিন্ধু, আফ্রিকা, স্পেন প্রভৃতি অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করেন। গভীর ধর্মানুরাগ ও ধর্মপ্রচারে একনিষ্ঠতার জন্য তাকে মুজাদ্দিদ' বা ধর্ম সঞ্চারকও বলা হয়। ন্যায়পরায়ণতা, সততা, ধার্মিকতা, নীতিবোধ, সহিষ্ণুতা, সরলতা প্রভৃতি গুণ বিচারে তিনি সত্যিই 'উমাইয়া সাধু' ছিলেন ।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, জনকল্যাণধর্মী শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মভীরুতার জন্য খলিফা আবদুল আজিজকে ধার্মিক খলিফা বা দ্বিতীয় ওমর বলা হয় ।