খলিফা আল ওয়ালিদের সময় সিন্ধু বিজয়ের ঘটনাটি সুদুরপ্রসারী সুফল বয়ে এনেছিল ।
খলিফা আল-ওয়ালিদের সময় পূর্বাঞ্চলের শাসনকর্তা ছিলেন হাজ্জাজ বিন ইউসুফ। তিনি সিন্ধু বিজয়ে অক্ষম হয়ে জামাতা মুহাম্মদ বিন কাসিমকে সিন্ধু অভিযানে প্রেরণ করেন। মুহাম্মদ বিন কাসিম বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে বীরবিক্রমে সিন্ধু জয় করেন। এ বিজয় আরবের আর্থসামাজিক, ধর্মীয়, বিশেষ করে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলে ।
সিন্ধু বিজয় তাৎক্ষণিকভাবে ভারতের বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তেমন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। তবে এ বিজয়ের পথ ধরেই গজনভি ও ঘুরিরা ভারতে মুসলিম কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সফল হন। সিন্ধু বিজয়ের সূত্র ধরে ভারতবর্ষে ইসলামের বীজ রোপিত হয়েছিল। ধর্ম প্রচারক ও বণিকদের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টায় ভারতবর্ষে ইসলামের প্রসার ঘটেছিল 1 সিন্ধু অপেক্ষাকৃত অনুর্বর ছিল। তাই এখান থেকে সরাসরি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব ছিল না। তবে এ বিজয়ের ফলে ভারতবর্ষের অন্যান্য অঞ্চলের সাথে আবরদের বাণিজ্যিক লেনদেনের পরিসর বৃদ্ধি পায়। আরবদের সিন্ধু বিজয়ের ফলে মুসলমানরা হিন্দুদের প্রত্যক্ষ সংস্পর্শে আসে। এতে দু সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রীতির সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আবার মুসলমানদের অনেকে বিজিত অঞ্চলে বসতি গড়ে এবং সেখানে নারীদের বিয়ে করে। এর ফলে সিন্ধুর লোকাচার ও সামাজিক রীতিনীতি আবরদের মধ্যে প্রবেশ করে। অন্যদিকে সিন্ধুবাসীর মধ্যেও অনেক আরবীয় বৈশিষ্ট্যের প্রভাব পড়ে। পরে আর্য ও সেমেটিক জাতির সংমিশ্রণে নতুন জাতির উদ্ভব ঘটে। প্রাচীনকাল থেকে ভারতবর্ষ ছিল উন্নত সভ্যতা ও সংস্কৃতির লীলাভূমি। দর্শন, জ্যোতিবিদ্যা, গণিত, চিকিৎসাবিদ্যা, সংগীত, স্থাপত্যও চিত্রশিল্পে ভারতীয়দের বিশেষ পারদর্শিতা ছিল। সিন্ধু বিজয়ের ফলে ভারতীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের এসব শাখার সাথে আরব মুসলমানদের পরিচয় ঘটে এবং তা আরবীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতির ওপর প্রভাব বিস্তার করে।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, খলিফা আল-ওয়ালিদের সময়ে সিন্ধু বিজয়ের ফলে অর্থনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও সংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক সুফল বয়ে আনে। এ বিজয়ের ফলেই ইন্দো-মুসলিম সভ্যতার গোড়াপত্তন হয়।