উদ্দীপকের স্পেনের গৃহীত পদক্ষেপের মতো খলিফা আব্দুল মালিকও রাজস্ব সংস্কারে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। খলিফা আব্দুল মালিকের রাজত্বকাল ছিল ইসলামের ইতিহাস ও অভ্যন্তরীণ সংস্কারের একটি স্বর্ণযুগ। শাসন সংস্কারে তিনি যেসব পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তা তৎকালীন শাসকমহলে আলোরন তৈরি করেছিল। তার এসব সংস্কারের মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ হলো রাজস্ব সংস্কার। উদ্দীপকেও এই সংস্কারের প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়। উদ্দীপাকে বলা হয়েছে, স্পেনীয়রা ব্রাজিলের খ্রিস্টানদের কৃষিজমি ক্রয় বন্ধ ঘোষণা করে এবং তাদের ওপর যে কর রেয়াত ছিল তা রোহিত করে। ফলে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করে জনগণের যে রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল সেই সব থেকে তারা বঞ্চিত হয়। খলিফা আব্দুল মালিকের রাজস্ব সংস্কারের ক্ষেত্রে দেখা যায় তিনি রাজস্ব সংস্কারের মাধ্যমে রাজ্যে বিরাজমান অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটানোর জন্য কিছু উদ্যোগ নেন। তিনি হাজ্জাজ বিন ইউসুফের পরামর্শে কিছু নীতি গ্রহণ করেন। যেমন- ১, ইসলাম গ্রহণ করলেও মাওয়ালীদের জিজিয়া ও খারাজ দিতে হবে, ২.সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেও তাদের গ্রামে গিয়ে স্ব-স্ব পেশায় নিযুক্ত হতে হবে, ৩.মুসলমানরা যে জমি ক্রয় করেছে তার জন্য তাদেরকে আগের মত প্রচলিত কর দিতে হব, ৪.অনাবাদি জমি ও জলাভূমির জল নিষ্কাশন করে সেগুলো চাষ করতে হবে। এজন্য কৃষকদের কিছু সুবিধা দেওয়া হয। চাষাবাদে সেচ সুবিধার বৃদ্ধির জন্য নতুন নতুন খাল খনন এবং ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রিস নদীর মধ্যকার সংযোগ খালসমূহ সংস্কার করা হয। পতিত ও অনাবাদি ভূমি চাষাযোগ্য করা হলে তিন বছরের জন্য তার রাজস্ব মওকুফ করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কৃষিঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এসব বিধি-ব্যবস্থা গ্রহণের পরে রাজস্বের আয় বৃদ্ধি পায় এবং অর্থনৈতিক সংকট দূরীভূত হয়। উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়,উদ্দীপকের স্পেনের গৃহীত পদক্ষেপের মতো খলিফা আব্দুল মালিকও রাজস্ব সংস্কারে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।