সাম্রাজ্যের বিভিন্ন মতলম্বীদের বিরোধিতা, বহুজাতির সমন্বয়ে গঠিত রাষ্ট্রের দুর্বলতা ও উমাইয়াদের প্রতি বিরূপ মনোভাবসহ নানা কারণে উমাইয়াদের পতন হয়।
বিভিন্ন মতলম্বীদের মতের বিরোধিতা তথা শিয়া, খারেজি, আলাবিসহ নানা সম্প্রদায়ের বিরোধিতা উমাইয়াদের পতনের অন্যতম কারণ। তাছাড়া তিন মহাদেশব্যাপী বিস্তৃত বিশাল উমাইয়া সাম্রাজ্যের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী দ্বন্দ্ব তথা, তুর্কি, আব্বাসীয়, ভারতীয়, স্পেনীয় ইত্যাদি। জাতিগোষ্ঠীর ভিন্নমত তাদের পতনকে ত্বরান্বিত করে।
ঐতিহাসিক খোদা বকশ বলেন, উমাইয়াদের পিছনে জনসমর্থন না থাকায় শুধু সামরিক শক্তির জোরে তারা বেশিদিন টিকে থাকতে পারেননি।” কোনো সাম্রাজ্যই কেবল সামরিক শক্তির ওপর টিকে থাকতে পারে না। স্থায়িত্বের জন্য জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা অপরিহার্য। কিন্তু উমাইয়া সাম্রাজ্যের পিছনে কোনো জনসমর্থন ছিল না। সাম্রাজ্যের সকল গোত্রগোষ্ঠীর সমর্থন তারা কোনোদিনই পায়নি, সম্ভবত এর চেষ্টাও করেনি। ফলে প্রথম থেকেই তারা সমরশক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। কিন্তু জনসমর্থনহীন কোনো শাসনই স্থায়ীহয় না। কয়েকজন শাসক ব্যতীত অধিকাংশ উমাইয়া শাসক আড়ম্বরপূর্ণ বিলাসী জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন। তারা সাম্রাজ্য শাসন করা বাদ দিয়ে আমোদ-প্রমোদে মত্ত হয়ে উঠেন। ফলে তাদের সামরিক শক্তি পঙ্গু হয়ে যায় এবং আর্থিক কাঠামো প্রায় ভেঙে পড়ে। এমতাবস্থায় কেবল উমাইয়া বংশের লোক ছাড়া সাম্রাজ্যের শিয়া, খারেজি, আরব-অনারব সকল শ্রেণির লোক আব্বাসি আন্দোলনের নেতা আবু মুসলিমের পতাকাতলে সমবেত হয়। ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে জাবের যুদ্ধে সম্মিলিত বাহিনী উমাইয়া বংশের শেষ খলিফা দ্বিতীয় মারওয়ানকে পরাজিত ও নিহত করে উমাইয়া বংশের পতন নিশ্চিত করে।
পরিশেষে বলার যায়, সামরিক বাহিনীর দুর্বলতা, উত্তরাধিকার নীতির অভাব, সাম্রাজ্যের বিশালতা, বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরেধিতার কারণে আব্বাসীয়দের হাতে উমাইয়াদের পতন হয়।