চেঙ্গিস খানের মতো খলিফা প্রথম ওয়ালিদও মূলত দক্ষ সেনাপতিদের কারনে খিলাফতের সর্বাধিক বিস্তৃতি ঘটাতে সক্ষম হয়েছিলেন - উক্তিটি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো :ওউমাইয়া খলিফা আল-ওয়ালিদ ছিলেন তৎকালীন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ বিজেতাদের অন্যতম। তবে তিনি শুধু তার নিজস্ব বিরত্বে এত বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী হতে পারেননি। দক্ষ সেনাপতিদের অক্লান্ত চেষ্টা ও অসাধারণ শৌর্যবীর্যের বদৌলতলেই আল ওয়ালিদ এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশের বহুস্থানে আরব অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। উদ্দীপকেও এমনটি দেখা যায় । উদ্দীপকে বর্ণিত দুর্ধর্ষ মঙ্গোল বিজেতা চেঙ্গিস খানের মতো খলিফা প্রথম ওয়ালিদের সাম্রাজ্য বিস্তারের ক্ষেত্রেও সেনাপতিদের অনুরূপ ভূমিকা লক্ষ্যণীয়। প্রথম ওয়ালিদ তার শাসনামলে হাজ্জাজ, কোতায়বা, ইবনে কাসিম, তারিক ও মুসার মতো বিখ্যাত রণনিপুণ সেনাপতিদের সাহায্য লাভ করার ফলে সাম্রাজ্য বিস্তারে অভাবনীয় সফলতা অর্জন করেছিলেন। ৭০৫ খ্রিস্টাব্দে খলিফা ওয়ালীদের ভাই মাসলামা ও ছেলে আব্বাসের সহায়তায় কোতায়বা মধ্য এশিয়ার বোখারা, সমরখন্দ দখল করে । ৭১০-৭১৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে কোতায়বা, খোজান্দা, তাসখন্দ ও ফারগানা দখল করে চীন সীমান্তে পৌঁছেন। ৭১৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি কাশগড় জয় করে সমগ্র মধ্য এশিয়া নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন। এদিকে ভারতের সিন্ধুর রাজা দাহিরের দম্ভের জবাবে ওয়ালীদের পূর্বাঞ্চলীয় শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন ইউসুফের আদেশে সেনাপতি মোহাম্মদ বিন কাসিম ৭১২ খ্রিস্টাব্দে সিন্ধু অধিকার করেন। অন্যদিকে ইফ্রিকিয়ার শাসনকর্তা মুসা নৌপথে আক্রমণ চালিয়ে মেজর্কা, মিনর্কা,ইডিকা প্রভৃতি দ্বীপ রোমানদের কাছ থেকে জয় করে মুসলিম সাম্রাজ্যভুক্ত করেন। তার সেনাপতি তারেক বিন জিয়াদ ৭১১ খ্রিস্টাব্দে মাত্র ১২০০ সৈন্য নিয়ে স্পেনের রাজা রডারিককে পরাজিত করে স্পেনে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন । অবশেষে বলা যায়, চেঙ্গিস খানের মতো খলিফা প্রথম ওয়ালিদও মূলত দক্ষ সেনাপতিদের কারনে খিলাফতের সর্বাধিক বিস্তৃতি ঘটাতে সক্ষম হয়েছিলেন - উক্তিটি যথার্থ।