উদ্দীপকে বর্ণিত আইনসভার সাথে হযরত উমর (রা.) প্রবর্তিত মজলিস-উশ-শুরার সাদৃশ্য রয়েছে।উদ্দীপকে বর্ণিত ব্রিটিশ পার্লামেন্টের আইনসভাটি দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট। উচ্চকক্ষের নাম হাউস অব কমন্স। মূলত হাউস অব কমন্সে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ ঐকমত্যের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। অপরদিকে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে গঠিত হাউস অব লর্ডসের সদস্যগণ দেশের সার্বিক বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করে সুচিন্তিত মতামত দেন। এ আইন সভার সাথে হযরত উমর (রা.)-এর প্রবর্তিত মজলিস-উশ-শুরার মিল রয়েছে। হযরত উমর (রা.) ইসলামি বিধি মোতাবেক রাষ্ট্রের যাবতীয় কাজ সুষ্ঠুভাবে করার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিমিত্তে কতিপয় সদস্যের সমন্বয়ে একটি 'পরিষদ গঠন করেন, যাকে মজলিস-উশ-শূরা বলে। কল্যাণধর্মী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই ছিল এ পরিষদের মূল লক্ষ্য। রাষ্ট্র পরিচালনা, বিজয়াভিযান, সীমান্তে গোলযোগ, বিদ্রোহ দমন প্রভৃতি ক্ষেত্রে তিনি এ পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করতেন। এ মজলিস-উশ-শুরা দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। যেমন- মজলিস-উশ-খাস এবং মজলিস-উশ-আম। মজলিস-উশ-শূরার পরামর্শ ব্যতীত হযরত উমর (রা.) কোনো কাজ সম্পাদন করতেন না। মজলিস-উশ-শূরা ছিল রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি। রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য এ পরিষদের বৈঠক ডাকা হতো এবং আলাপ-আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতো। জনগণের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণে এবং স্বচ্ছভাবে শাসনকার্য পরিচালনার জন্য গঠিত এ পরিষদ তৎকালীন ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে সকলের নিকট জনপ্রিয় করে তোলে।অতএব আমরা বলতে পারি, উদ্দীপকে বর্ণিত আইনসভার কার্যক্রম হযরত উমর (রা.)-এর মজলিস-উশ-শূরার কার্যকলাপের অনুরূপ।