উদ্দীপকে বর্ণিত শাহ আব্বাসের শাসনব্যবস্থার সাথে আমার পঠিত খলিফা উমর (রা.)-এর শাসনব্যবস্থা মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, শাহ আব্বাস পূর্ববর্তী শাসকের মনোপয়ন অনুসারে শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে জনগণকে জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি প্রশাসনের পুনর্বিন্যাসের জন্য পরামর্শসভা গঠন, প্রাদেশিক শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন, সামরিক বাহিনী গঠন ও বিচার ব্যবস্থার সংস্কারসহ জনহিতকর কার্যাবলির সম্পাদন করেন। যা হযরত উমর (রা.)-এর শাসনব্যবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কেননা উমর (রা) ক্ষমতা গ্রহণ করে গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। হযরত উমর (রা.) শাসককে পরামর্শদানের জন্য মজলিস-উশ-শুরা গঠন করেন এবং এতে বিশিষ্ট সাহাবি, আনসার, মুহাজির ও বিশিষ্ট নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি ক্ষমতাকে কুক্ষিগত না করে সমগ্র রাজ্যকে ১৪টি প্রদেশে ভাগ করেন এবং প্রদেশগুলোকে জেলাতে বিভক্ত করেন। তার সময়ে প্রদেশের প্রধানকে ওয়ালি এবং জেলার প্রধানকে আমিল বলা হতো। হযরত উমর (রা.) রাজস্ব ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে দিওয়ানুল খারাজ গঠন করেন। এ দিওয়ান রাজ্যের আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসাব সংরক্ষণ করত। তিনি স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রবর্তন ও কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিচারকার্য পরিচালনা করেন। হযরত উমর (রা) সামরিক বাহিনীর সর্বময়কর্তা হিসেবে সমগ্র সাম্রাজ্যকে ৯টি সামরিক জেলায় বিভক্ত করেন। তিনি হিজরি সালের প্রবর্তন, আদমশুমারি চালু, পুলিশ ও কারাগার প্রতিষ্ঠা, কৃষি ব্যবস্থার উন্নতি ও নারী শিক্ষার প্রসার ঘটান। উইলিয়াম মুইর বলেন, উমর (রা)-এর জীবনচরিত অল্পকথায় আঁকা যায় না। সরলতা, কর্তব্যপরায়ণতা তার জীবনাদর্শ ছিল এবং ন্যায়পরায়ণতা ও একাগ্রতা ছিল তার শাসনের মূলনীতি।"