উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে হযরত আলী (রা.)-এর সময়ের সিফফিনের যুদ্ধ ও যুদ্ধ পরবর্তী দুমার মীমাংসা বৈঠক বা সালিশির ঘটনার মিল রয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, নিলগিরি অঞ্চলের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শিমপুর ও নিশাপুর গ্রামের যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে শিমপুর জয়ের কাছাকাছি পৌঁছেও প্রতিপক্ষের কূটকৌশলের কারণে যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যায়। বিরোধ মীমাংসার জন্য উভয়পক্ষে সালিশ বৈঠকে বসে। সেখানেই ছলচাতুরির কারণে নিশাপুর পরাজিত হয়, যা সিফফিনের যুদ্ধ ও যুদ্ধ পরবর্তী সালিশকে নির্দেশ করে। ৬৫৭ খ্রিস্টাব্দে হযরত আলী (রা.) মুয়াবিয়ার মধ্যে সিফফিনের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধ শেষে হিযরত আলী (রা.) তাঁর পক্ষ থেকে মধ্যস্থতা করার জন্য আবু মুসা আল-আশয়ারীকে নির্বাচন করেন। আবু মুসা আল-আশয়ারী অত্যন্ত ধার্মিক ব্যক্তি ছিলেন। সঙ্গে আলীর পক্ষ থেকে ৪০০ জন সাক্ষী দেওয়া হয়। দুই পক্ষের দুই মধ্যস্থকারী ৪০০ জন করে মোট ৮০০ জন সাক্ষী নিয়ে ৬৫৯ সালের জানুয়ারিতে আল-মদিনা ও দামেস্কের মাঝে দু'মাতুল জন্দল (আজরহ) নামক স্থানে সমাবেশ হয়। ধূর্ত ও কপট আমর সভার কাজ শুরু হওয়ার আগে আবু মুসা আল-আশয়ারীকে বলেন, এদের দুইজনকে খিলাফতের দাবি ত্যাগ করতে হবে। তদস্থলে তৃতীয় ব্যক্তিকে খলিফা হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হবে। আবু মুসা আল-আশয়ারি ইসলাম ও মুসলিম বিশ্বের মঙ্গল মনে করে আমরের কথায় সায় দিলেন। তিনি সিদ্ধন্ত অনুযায়ী বলেন, আমি হযরত আলী (রা.)-কে খিলাফতের পদ থেকে পদচ্যুত করলাম। এর পর নীলনকশার রূপকার আমর দাঁড়িয়ে জনসমাবেশে বললেন, "আমি হযরত আলী (রা.)-এর পদচ্যুতি অনুমোদন করলাম এবং তদস্থলেমুয়াবিয়ার মনোনয়ন সমর্থন করলাম।" অতএব উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনা হলো সিফফিনের যুদ্ধপরবর্তী দুমার মীমাংসা। এর প্রেক্ষাপট ছিল সিফফিনের যুদ্ধ।