উদ্দীপকে বর্ণিত মহামতি সুলাইমানের ন্যায়বিচারের মতো হযরত ওমর (রা) ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
খলিফা ওমর (রা) ছিলেন উত্তম আদর্শের মূর্ত প্রতীক। তার চরিত্রের বিভিন্নমুখী বৈশিষ্ট্যের মধ্যে একটি হলো ন্যায়পরায়ণতা। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তিনি আপন-পর, ধনী-গরিব কোনো ভেদাভেদ করতে না । হযরত ওমর (রা)-এর এ ন্যায়পরায়ণতাকেই ধারণ করেছেন মহামতি সুলাইমান।
মহামতি সুলাইমান দুর্নীতির দায়ে নিজের জামাতাকে শাস্তি দেন। এমনকি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে নিজের পুত্রকেও ফাঁসি দিতে দ্বিধাবোধ করেননি। অর্থাৎ ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে তিনি আপসহীন। হযরত ওমর (রা)-ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বজ্রকঠোর ছিলেন। তাঁর কাছে মুসলিম-অমুসলিম, ধনী, দরিদ্র, আপন-পর সবাই সমান ছিল। নিজের ছেলে মদপান ও ব্যভিচারের অপরাধে দোষী প্রমাণিত হলে তিনি তাকে নিজ হাতে দোররা মেরে শাস্তি দেন। এতে ছেলের মৃত্যু হয়। এছাড়া সামান্য অপরাধে তিনি দিগ্বিজয়ী সেনানায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদকে সেনাপতির পদ থেকে অপসারণ করে সামান্য সৈনিকের পদে নামিয়ে আনেন । খলিফা নিজে ভুল করলে আল্লাহ ও মানুষদের কাছে ক্ষমা চাইতেন। ওমরের ভয়ে পারস্য বিজয়ী সেনানায়ক সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস, তাঁর মাদায়েনস্থিত বিলাসবহুল প্রাসাদ ধূলিস্যাৎ করে দেন। বিশাল সাম্রাজ্যের খলিফা হয়েও ওমর (রা) ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য কোনো দেহরক্ষী রাখেননি, কিংবা নিজের জন্য কোনো আড়ম্বরপূর্ণ শাহী বালাখানাও নির্মাণ করেননি। ইসলাম, রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণের জন্য তিনি সব ক্ষেত্রেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন।
উপরের আলোচনায় প্রমাণিত হয় যে, মহামতি সুলাইমান ও হযরত ওমর (রা) উভয়ই ছিলেন ন্যায়বিচারের মূর্ত প্রতীক।