আরব বসন্তের মিসরের প্রেসিডেন্টের পরিণতির সাথে খলিফা উসমান (রা) বিরোধী আন্দোলনের মিল হলো উভয় আন্দোলনই শাসকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কতকগুলো অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।হযরত উসমান (রা)-এর ১২ বছরের খিলাফতকালের প্রথম ছয় বছর ছিল শান্তি, সমৃদ্ধি ও গৌরবের। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে পরবর্তী ছয় বছর ছিল বিদ্রোহ, বিশৃঙ্খলা, অসন্তোষ ও রক্তপাতের করুণ কাহিনিতে কলুষিত। খিলাফতের প্রথমার্ধে রাজ্য জয়সহ কৃতিত্বপূর্ণ কার্যাবলিতে যারা খলিফা উসমান (রা)-এর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিল, তারাই আবার নিরপরাধ খলিফার বিরুদ্ধে নানারূপ অভিযোগ উত্থাপন করে সাম্রাজ্যে বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে রক্তপাতের মতো' মর্মান্তিক ঘটনার জন্ম দেয়। হযরত উসমান (রা.)-এর বিরুদ্ধে আনীত মিথ্যা অভিযোগসমূহ হলো-১. স্বজনপ্রীতির অভিযোগ২. কুরআন শরিফ দক্ষ্মীভূতকরণ;৩. আত্মীয়স্বজনদের বায়তুল মাল হতে অর্থ প্রদান;৪. ব্যক্তিগত স্বার্থে চারণভূমি ব্যবহার;৫. আবুজার আল গিফারির নির্বাসন;৬. কাবা শরিফের সম্প্রসারণ।এসব মিথ্যা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৬৫৬ সালে খলিফা বিদ্রোহীদের হাতে নিহত হন। উদ্দীপকে প্রদত্ত আরব বসন্ত মিসরের স্বৈরশাসন ও সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। ফলে দেশে দেশে স্বৈরশাসকদের পতন ঘটতে থাকে। হযরত উসমান (রা)-এর বিরুদ্ধেও শাসনকার্যের অনিয়ম ও জনস্বার্থবিরোধী কাজের মিথ্যা অভিযোগে আন্দোলন সংঘটিত হয়।